ফাঁস হওয়া প্রশ্নে চাকরিরতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী

বিসিএসের ফাঁস হওয়া প্রশ্নে যারা পাশ করে চাকরি করছেন তাদের চাকরি করার কোনো অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ফাঁস হওয়া প্রশ্নে চাকরি করছেন, এমন ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

তবে তিনি প্রশ্ন রাখেন, এখন সেটা খুঁজে দেবে কে? ওরা যদি বলতে পারে যে অমুকের কাছে বিক্রি করেছে- তখন প্রমাণ করতে পারলে সেটি দেখা যাবে। পাশাপাশি সাংবাদিকরা যদি চেষ্টা করে এমন ব্যক্তি খুঁজে বের করে দেয় তাহলেও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। 

রোববার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। 

প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হলেও ওই প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে যারা চাকরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা, জানতে চান একজন সাংবাদিক। 

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমিও বিশ্বাস বেনিফিসিয়ারি যারা, তাদেরও ধরা উচিত। তাহলে ভবিষ্যতে আর কেউ করবে না। প্রশ্নপত্র যারা ফাঁস করে, আর সেই প্রশ্নপত্র যারা ক্রয় করে দুই জনেই অপরাধী, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এদের খুঁজে বেরটা করবে কে? সাংবাদিকরা যদি চেষ্টা করে বের করে দেয়, ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৪তম বিসিএস পরীক্ষা হয়েছিল ২০০২ অথবা ২০০৩ সালে। বিএনপির আমলে পরীক্ষা বা চাকরি হতো কোনো পরীক্ষা দিয়ে নয়। হাওয়া ভবন থেকে তালিকা পাঠানো হতো। আর ঢাকা কলেজের বিশেষ কামরায় পরীক্ষা দিয়ে পাশ কের তারা চাকরিকে ঢোকো। কিন্তু এনিয়ে তখন কোনো উচ্চবাচ্য হয়নি। প্রশ্নফাঁস সেই থেকেই শুরু।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে আমরা ক্ষমতায় আসার পর আসার পর ২০০৯ সালে এই জিনিসটা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছিলাম। যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের ওখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

২০১৮ সালের পর কোটা আন্দোলন হওয়ার পর এই গ্রুপটা কী করে যেন আবার এখানে জায়গা করে ফেলে, যেটা এখন ধরা পড়েছে। আমরা কিন্তু একটা জিনিস, অনেক সময় এসব ধরতে গেলে অনেকে বলে- এটা প্রচার হলে ভালো হবে না, ইমেজ নষ্ট হবে, অমুক হবে। আমি তাতে বিশ্বাস করি না। কীসের ইমেজ নষ্ট হবে? অন্যায়- অবিচার যেটা করবে, তাকে আমি ধরবোই। তাতে আমার ওপর যত… পরোয়া করবো না। তাদের ধরতেই হবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে। না হয় এটা চলতেই থাকবে। আগামীতে যাতে এটা না চলতে পারে, তার জন্য ব্যবস্থাটা নেওয়া হয়েছে।