চীন সফর নিয়ে সমালোচনায় কিচ্ছু যায় আসে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা এগুলো বলে বেড়াচ্ছেন তারা কি জেনে বুঝে বলছেন? নাকি শুধু আমাকে হেয় করার জন্য বলছে? যার যা বলছে, বলতে দেন।
রোববার গণভবনে চীন সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা চীন সফর নিয়ে দেশে বিভিন্ন গুজব প্রসঙ্গে সরকারপ্রধানের কাছে জানতে চান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিষয়টিতে খুব গুরুত্ব দেই না। আমি এটায় অভ্যস্ত হয়ে গেছি। যারা এই কথাগুলো বলে বেড়াচ্ছেন, তারা কি জেনে বুঝে বলছেন, নাকি শুধু আমাকে হেয় করার জন্য বলছেন, সেটাই প্রশ্ন। সবসময় আমার বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো, এইভাবে কথা বলা। বলতে বলতে এত বেশি বলে, যারা বলছে বলতে দেন। এখানে আমার কিচ্ছু যায় আসে না।
চীন সফরে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হলেও সমালোচকেরা বলছেন, এ সফরে কোনও প্রাপ্তি নেই। তারা বড় ধরনের ঋণ দেবে না। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১টি সমঝোতা স্মারক সই ও আরও সাতটি এমওইউ হয়েছে। যারা এই কথাগুলো বলে বেড়াচ্ছেন, তারা কি জেনে-বুঝে বলছেন? নাকি শুধু আমাকে হেয় করার জন্য বলছেন? আমি বিষয়টিতে খুব গুরুত্ব দেই না। ১৯৮১ সালের দেশে আসার পর প্রতিটি ক্ষেত্রে এ ধরনের নেতিবাচক কথা বলে, এটাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। সবসময় আমার বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো, এইভাবে কথা বলা। বলতে বলতে এত বেশি বলে, যারা বলছে বলতে দেন। এখানে আমার কিচ্ছু যায় আসে না।
তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো। তার আগে ভারত গেলাম, সেখানে বলা হয়েছিল ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করে এসেছি। চীনে গেলাম, বলে কিছুই দেয়নি। এগুলো বলেই আসছে। ভারতের কাছে দেশ বেচা, চুক্তি বাতিল করতে হবে। এটা এক ধরনের লোকের মানসিক অসুস্থতা বলে মনে করি। মানসিক অসুস্থতা ছাড়া বানোয়াট কথা কেউ বলতে পারে না। তাদের জন্য করুণাই হয় আমার। তাদের নিয়ে কিছু বলার নাই।
চীনের সঙ্গে চুক্তির পূর্ণ তালিকা সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পূর্ণ তালিকা দেওয়া আছে। ২১টি নামও আছে। আপনারা চাইলে পড়তে পারি। না অনেক সময় অনেকে বলেন। কিছুই হয়নি। কিছুই না পেয়ে খালি হাতে ফিরে আসছি। ওরা তে বলবেই। তারা আবার মনে কষ্ট পেতে পারে।
চীন সফর বাংলাদেশের কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, বিকাল ৫টার মধ্যে আমাদের সব কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। ওইদিন রাতে রওনা হয়ে ১১ (জুলাই) তারিখ ভোর রাতে আমরা ঢাকা ফিরে আসি।
এক সাংবাদিক ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর নিয়ে ‘নেতিবাচক’ খবর প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের গণমাধ্যমের কথা শুনে যারা কথা বললেন, তারা বললেন, দেশ বিক্রি চুক্তি করে আসছি। কোনটি টিক? আমার মেয়েকে ওদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দাওয়াত দিয়েছিলো। জ্বর ছিলো। যেতে পারিনি। আমি মা। এই অবস্থায় মেয়েকে রেখে চলে যেতে হয়। সমস্ত কর্মসূচি শেষ হয়ে যায়। মাত্র ৫-৬ ঘণ্টা আগে এসছি। এত বড় তোলপাড় হয়ে যাবে বুঝতে পারেনি। এর আগেওতো এরকম হয়েছে। ভারতে ৩-৪ দিনের প্রোগ্রাম ছিলো। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকে রিসিভ করতে আগে চলে আসলাম। আমি বিদেশে গেলে শপিংয়ে যাওয়ার নেই, বেড়ানোর নেই। যখনই সুযোগ পাই, আগে চলে এসেছি। যারা এত রঙচঙ মাখিয়ে কথা বলে তাদের যেন দেশবাসী চিনে রাখে। এরা বানোয়াট কথা বলে।
রাজাকারের নাতিপুতি চাকরি পাবে, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর