দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন ৪০০ কোটির সেই পিওন? 

৪০০ কোটি টাকা কামানো আলোচিত সেই পিওন জাহাঙ্গীর আলম দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের একজন সদস্য।

রোববার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের পর রাতেই পিওন জাহাঙ্গীর আলম দেশ ছেড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। তার বাড়িঘর তালা দেওয়া রয়েছে।

আলোচিত ওই পিওনের বড় ভাই মো. মীর হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সন্তানদের নিয়ে জাহাঙ্গীরের দ্বিতীয় স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। রোববার রাতে জাহাঙ্গীর তাদের কাছে চলে গেছেন।

জাহাঙ্গীর আলমের ৪০০ টাকার কামানো নিয়ে এখন ব্যাপক আলোচনা চলছে। রোববার সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এখন দুর্নীতিবাজদের ধরতে পারছি বলেই সবাই জানতে পারছে। আমার বাসায় কাজ করে গেছে, সেই পিয়নও ৪০০ কোটি টাকার মালিক। সে হেলিকপ্টার ছাড়া চলে না। আর, এটাই বাস্তব কথা।

pion1 

এরপরই ব্যাপক আলোচনায় আসেন জাহাঙ্গীর। বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে তা অঢেল সম্পদের তথ্য। পিওন কীভাবে শত শত কোটি টাকা কামাই করেছেন তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) মো. জাহাঙ্গীর আলমের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার নির্দেশ দিয়েছে। জাহাঙ্গীর, তার স্ত্রী কামরুন নাহার ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছে বিএফআইইউ।

আর তাদের সব ব্যাংক হিসাবের লেনদেনের তথ্যও চাওয়া হয়েছে। অ্যাকাউন্ট খোলার ফরমসহ যাবতীয় তথ্য পাঁচ দিনের মধ্যে পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছে বিএফআইইউ।

প্রধানমন্ত্রী বাসভবন ও কার্যালয়ে যাতায়াতের সুবাদে অত্যন্ত প্রতাপশালী হয়ে ওঠা জাহাঙ্গীর বহু অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। নানা জায়গায় হস্তক্ষেপ করে চাঁদাবাজি ও তদবিরের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন। জাহাঙ্গীর চক্রে জড়িত হন আরও কয়েকজন।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে জাহাঙ্গীর শুধু অবৈধ সম্পদই অর্জন করেননি, বাগিয়ে নেন আওয়ামী পদ-পদবিও। গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালীর চাটখিল ও সোনাইমুড়ী আসনে নৌকার মনোনয়ন চেয়েছিলেন জাহাঙ্গীর। তবে না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে শেষমেশ আর ভোট করতে পারেননি।

বেপরোয়া জাহাঙ্গীরের বিষয়ে অভিযোগ আসে খোদ প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এরপরই অনিয়মে জড়িয়ে পড়া পিওনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার খবর প্রথম সামনে আসে গত ডিসেম্বরে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয় দিয়ে নানা ‘অনৈতিক’ কাজে জড়িত জাহাঙ্গীর আলমের বিষয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তখন বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।