গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে থাকা কোটা আন্দোলনের ছয় সমন্বয়কারী নিরাপদে আছেন বলে তাদের পরিবারের স্বজনরা জানিয়েছেন।
এদিকে ডিবিপ্রধান হারুন-অর-রশীদ বলেছেন, সমন্বয়কারীদের কাছ থেকে জোর করে আন্দোলন প্রত্যাহারের বিবৃতি আদায় করা হয়েছে-এই তথ্য সঠিক সঠিক নয়।
সোমবার সকালে ডিবি কার্যালয়ে ছয় শিক্ষার্থীর সঙ্গে দেখা করতে যান পরিবারের সদস্যরা। সেখানে কিছু সময় কাটান তারা।
সমন্বয়কারীদের স্বজনরা বলছেন, তারা স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন এবং কথা বলেছেন। তারা নিরাপদে ও ভালো আছেন বলে সন্তোষ জানান স্বজনরা।
হেফাজতে কোটা আন্দোলনের সমন্বয়কারীদের কোনো ধরনের নির্যাতন করা হয়নি বলেও জানিয়েছেন তাদের স্বজনরা।
এদিকে সমন্বয়কারীদের কাছ থেকে জোর করে বিবৃতি নেয়া হয়েছে এই তথ্য ঠিক নয় বলে জানিয়েছেন ডিবিপ্রধান হারুন-অর-রশীদ। তিনি বলেন, শিগগিরিই তাদেরকে পরিবারের সদস্যদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
দুপুরে ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের হারুন বলেন, শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি প্রত্যাহারের বিবৃতি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। নিরাপত্তার জন্যই তাদেরকে হেফাজতে রাখা হয়েছে।
শুক্র, শনি ও রোববার ছয় সমন্বয়ককে হেফাজতে নেয় গোয়েন্দা পুলিশ। এরা হলেন- মো. নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, মো. আবু বাকের, আসিফ মাহমুদ ও নুসরাত তাবাসসুম।
এরপর রোববার রাতে ডিবি হেফাজত থেকে সব ধরনের কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ক।
তাদের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, কোটা সংস্কার আন্দোলন ও তার প্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনেকেই অপ্রত্যাশিতভাবে আহত-নিহত হয়েছেন। এছাড়া রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন সহিংস ঘটনা ঘটেছে। আমরা এ সকল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত বিচারের দাবি জানাই।
বিবৃতিতে বলা হয়, আমাদের প্রধান দাবি ছিল কোটার যৌক্তিক সংস্কার, যা ইতোমধ্যে সরকার পূরণ করেছে। এখন শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দ্রুত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানাই। সার্বিক স্বার্থে এই মুহূর্ত থেকে আমাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করছি।