সন্ধ্যার মধ্যে পদত্যাগ করবেন প্রধান বিচারপতি

পদত্যাগের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। সন্ধ্যার মধ্যেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কথা বলে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন তিনি।

শনিবার দুপুরে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রধান বিচারপতি।

এর আগে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিদের দুপুর একটার মধ্যে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দেন বৈষম্য বিরোধীছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।

এসময় তিনি বলেন, পদত্যাগ না করলে আমরা প্রধান বিচারপতিসহ দলবাজ বিচারপতিদের বাসভবন ঘেরাও করে পদত্যাগে বাধ্য করবো।

পরে প্রধান বিচারপতিসহ অন্যদের পদত্যাগের দাবিতে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে আন্দোনকারী শিক্ষার্থীদের ঢল নামে। বেলা ১১টা থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে হাইকোর্টে আসা শুরু করে।

এর আগে সকালে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের সব বিচারপতির অংশগ্রহণে ডাকা ফুলকোর্ট সভা স্থগিত ঘোষণা করেছেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।

২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে দেশের ২৪তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পরে ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি শপথ নেন।

আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসএস, এমএসএস ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮৬ সালে আইনজীবী হিসেবে জেলা বারের সনদ পান।

১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে এবং ২০০৫ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

তিনি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে ২০০৯ সালের ৩০ জুন যোগ দেন ওবায়দুল হাসান। ২০১১ সালের ৬ জুন একই বিভাগে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।

মুক্তিযুদ্ধের সময় সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর একজন সদস্য হিসেবে ২০১২ সালের ২৫ মার্চ যোগদান করেন এবং ১৩ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে ওই ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।

২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই দায়িত্বে ছিলেন ওবায়দুল হাসান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ কর্মরত থাকাকালীন ১১টি মামলার রায় দিয়েছেন তিনি। ২০২০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান ওবায়দুল হাসান।