জুলাই অভ্যুত্থানের একেকটি ঘটনা যেন একেকটি উপাখ্যান। তেমনি একটি দৃশ্য ছিল আদালত চত্বরে আদরের সন্তানকে সাহস দেওয়া এক মহীয়সী নারীর ভিডিও। সে সময় লাখো মানুষকে এই দৃশ্য অনুপ্রাণিত করলেও অনেকেই জানতেন না কে ছিলেন এই মা-ছেলে। জানাচ্ছেন সাদ্দাম হোসাইন।
ঘটনা গত বছরের জুলাইয়ে। ‘যা বাবা, কিচ্ছু হবে না, এ লড়াইয়ে তোদের জিততে হবে’। আদরের সন্তানের হাতে হাত কড়া। এমন পরিস্থিতিতে মা কান্না রেখে উল্টো ছেলেকেই সাহস দিচ্ছেন। মায়ের প্রেরণায় মৃদু হাসি দিয়ে বীরের মতো পুলিশের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছেন জুলাইয়ের এক বীর যোদ্ধা।
তিনি ওমর শরীফ মো. ইমরান সানিয়াত। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়- আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ-এআইইউবি’র এই শিক্ষার্থীর সেদিনের এমন দৃশ্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়নি এমন একজনকেও হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু অনেকেই জানতেন না, এই তরুণ তুর্কি বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা বরকত উল্লাহ বুলু-শামীমা বরকত লাকী দম্পতির বড় সন্তান সানিয়াত।
চব্বিশের ২৩ জুলাই মধ্যরাতে, বসুন্ধরার আবাসিক এলাকা থেকে তুলে নেয়া হয় সানিয়াতকে। হাসপাতালে ভর্তি থাকা মায়ের কাছে পরদিন এ খবর গেলে তিনি অসুস্থ শরীর নিয়েই দিনভর শহরের এমন কোনো স্থান বাদ রাখেননি যেখানে তার সন্তানকে খোঁজেননি। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়ে আদালত চত্বরে দেখা পান ছেলের।
শামীমা বরকত লাকী বলেন, রক্তঝরা জুলাইয়ে হাজারও মা যখন তার সন্তানদের হারাচ্ছে তখন নিজের ছেলের আশা ছেড়ে দেন তিনি। আরও জানান, তুলে নিয়ে রিমান্ডে দুই দফা নির্মম নির্যাতন করে সাবেক ডিবি প্রধান হারুন। এমনকি নির্যাতনের সময় মাকে ফোনে রেখে ছেলের আর্তচিৎকার শোনাতেন হারুন।
আদালত চত্বরের সানিয়াতকে মায়ের সাহস দেয়ার এমন দৃশ্য দেখে অনুপ্রাণিত হোন আন্দোলনকারীরা। জুলাই বিপ্লবে নির্যাতিত এই তরুণ তুর্কি অভ্যুত্থান পরবর্তী কারাগার থেকে বের হওয়ার পর কখনই নিজেকে সেভাবে কারও সামনে আনেননি। জানান, তার এই ত্যাগ দেশের জন্য। পাওয়া না পাওয়ার হিসাব রাখতে চান না সানিয়াত।