বদ্ধ ঘরে স্বচ্ছ ভোট সম্ভব নয়, সেজন্য খোলা মাঠে ভোটের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমেদ। আর ইসি আনোয়ারুল ইসলাম মনে করেন, নির্বাচন কমিশনসহ সবাই আস্থার সংকটে ভুগছে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তারা এসব কথা বলেন। আরেক কমিশনার হুঁশিয়ারি দেন, নির্বাচনে কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া হবে না।
ভোটের দিন সাংবাদিকরা কি করতে পারবেন, আর কি করতে পারবেন না এমন বেশ কিছু বিধান রেখে নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহে গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য নীতিমালা প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই নীতিমালার কিছু প্রস্তাব নির্বাচনের সময় গণমাধ্যমের অবাধ বিচরণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এনিয়ে সিইসির কাছে স্মারকলিপি এবং সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন আরএফইডি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) নেতারা এ নীতিমালা নিয়ে ভিন্নমত, আপত্তি তুলে ধরেন। এতে চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসির সচিব অংশ নেন এবং তারা ধৈর্য্য করে সাংবাদিকদের কথা শুনেন।
সংগঠনের নেতারা বলেছেন, বিদ্যমান নীতিমালা বহাল থাকলে সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য প্রবাহ ‘বিঘ্নিত’ হবে। নীতিমালার খসড়া নিয়ে সাংবাদিকদের দাবি বিশ্লেষণ করে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম।
তিনি বলেন, প্রত্যেকটা বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা দরকার রয়েছে। আপনাদের দিক থেকেও আমাদেরকে সহযোগিতা করুন। বাস্তবতার নিরিখে যার যার অবস্থান থেকে যাতে আমরা একটা ভালো নির্বাচন করতে পারি, সেজন্য পরস্পরকে সহযোগিতা করব।
ইসি আনোয়ার বলেন, মূল উদ্দেশ্য যেহেতু আমাদের সবার একটাই, আলাপ আলোচনার মাধ্যমে এগুলো পরবর্তীতে সমাধান করা যায়। স্বচ্ছ ভোটের জন্য কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। সবচেয়ে মুশকিল হয়ে গেল কি, আমি আপনি আপনারা, সবাই মিলে কেউ কিন্তু আস্থার জায়গায় নেই। আমি আস্থার জায়গায় আছি, এই দাবি করি না। এই যে আস্থার সংকট এটা আমাদের জাতীয় সংকট।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ বলেন, বদ্ধ ঘরে স্বচ্ছ ভোটের সম্ভাবনা নেই। তাই খোলা মাঠে ভোট নেয়ার পক্ষে আবারও মত দেন তিনি। ইসি তাহমিদা বলেন, স্বচ্ছে নির্বাচন যদি চান তাহলে ওপেন স্পেসে নির্বাচন করার মানসিকতা তৈরি করেন, সেটাই হবে স্বচ্ছ নির্বাচন। তা না হলে স্বচ্ছ নির্বাচন কখনও হবে না। এতো সাংবাদিককে একসঙ্গে একোমোডেট (ভোটকক্ষে সংকুলান) করা যাবে না।
এর আগেও গত ২ মার্চ জাতীয় ভোটার দিবসের আলোচনায়ও তিনি খোলা মাঠে ভোটের পক্ষে মত দিয়েছিলেন।
সাংবাদিকদের কাজ করার জন্য সুন্দর একটি পরিবেশ তৈরি করতে কমিশন কাজ করছে উল্লেখ করে কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আমরা সবাই চাই একটি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। এ জন্য গণমাধ্যমের সহযোগিতা অপরিহার্য। সাংবাদিকদের প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো বিবেচনা করে গণমাধ্যম, ইসি এবং জনগণের জন্য স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। ভুল হতে পারে, তবে কোনো অন্যায় বরদাশত করা হবে না। অবাধ ও সুষ্ঠু একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভোটের জন্য সাংবাদিকদের সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন।
সচিব আখতার আহমদ সাংবাদিকদের অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। মতবিনিময়সভায় আরএফইডি সভাপতি কাজী জেবেল প্রস্তাবিত নীতিমালা উপস্থাপন করে ইসির কাছে হস্তান্তর করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী।