শেষ দিনেও প্রার্থীদের ভিড়, নানা অভিযোগের তীর কমিশনের দিকে

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠাতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীতা ফিরে পেতে আপিলের শেষ দিনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ছিলো দলীয় ও স্বতন্ত্রদের ভিড়। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ফিরে পেতে শেষ দিনে ইসিতে আপিল করেছেন ১৩১ জন মনোনয়ন প্রার্থী। 

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলে আবেদন। তবে, সন্ধ্যা ৬টার সময়ও দেখা যায় আপিলকারীদের দীর্ঘ লাইন।

নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখার পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক গণমাধ্যমকে জানান, “আজকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত যারা নির্বাচন ভবনে আপিল করতে উপস্থিত হয়েছেন তাদের সবার আপিল গ্রহণ করা হবে। সেটা যতক্ষণই লাগুক, আমরা শেষ করবো।”

এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অভিযোগ, এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর নিয়ে পরিস্থিতি জটিল করেছে কমিশন। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বেরও অভিযোগ ছিলো অনেকের কথায়। 

হবিগঞ্জ-৪ আসনের মুসলিম লীগ মনোনীত প্রার্থী শাহ মুহাম্মদ আল আমিন। নিয়ম মেনেই সময়মতোই জমা দেন সব কাগজপত্র। তবুও তা ভুলবশত আটকে দেন সে এলাকার রিটার্নিং কর্মকর্তা।

রিটার্নিং কর্মকর্তার এমন স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ পাওয়া যায় আরও অনেক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের কণ্ঠে।

এদিন আবেদন করতে এসেছেন অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থীও। এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জটিলতায় আটকেছেন তাদের অধিকাংশই। তবুও প্রার্থীতা ফিরে পেতে আশাবাদী সবাই-ই।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে গণভোটও। এ উপলক্ষ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশন জানায়, সারা দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে জমা পড়া মনোনয়নপত্রের মধ্যে এক হাজার ৮৪২টি বৈধ এবং ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের সময় নির্ধারণ করা হয় ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তারা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং তা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।