শেরপুরের ঘটনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব, হত্যকারী ধরতে অভিযান চলছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

শেরপুরের ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলেছ বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। পাশাপাশি তিনি সব পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহবানও জানিয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজারাবাগ পুলিশ লাইনস অডিটরিয়ামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষ তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচনের দিন শেরপুরের মতো কোনো ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে তার জন্য সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলেও জানান তিনি। 

অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, রিটানিং কর্মকর্তা থেকে শুরু নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা কোনো দলের লেজুরবৃত্তি করলে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এদিকে ইসি সচিব আখতার আহমেদ একই দিন সাংবাদিকের এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, শেরপুরে সহিংসতার ঘটনায় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিটির প্রতিবেদনের পর প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে জামায়াত নেতার মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। 

বুধবার শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে স্টেজের সামনে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নিহত হন এক জামায়াত নেতা। দলটির দাবি, শেরপুরে বিএনপি প্রার্থীর সুনির্দিষ্ট উসকানিতেই তাদের নেতা রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। 

দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, শেরপুরের ঘটনায় পুরো দেশের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতার চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন সংঘর্ষ থামাতে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, শুধু শেরপুর নয়, সারা দেশেই জামায়াতে ইসলামী ও ১১-দলীয় জোটের নেতাকর্মী এবং মহিলা কর্মীদের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে বিএনপি।

অপরদিকে বৃহস্পতিবার বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজশাহীতে এক নির্বাচনী জনসভায় দাবি করেছেন, বিএনপি শান্তিতে বিশ্বাস করে, ঝগড়া, ফ্যাসাদে যেতে চায় না। তিনি বলেছেন, সমালোচনায় পেট ভরবে না। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা ঘটলে সরকার সঠিক তদন্ত করুক। বিএনপির পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। সবাইকে নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চায় বিএনপি।