ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেও ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নেয়া থেকে বিরত রয়েছেন বিএনপি থেকে নির্বাচিত সদস্যরা। এই সিদ্ধান্তের পেছনে বিদ্যমান সংবিধানের আইনি ও পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতাকে দায়ী করেছে দলটি।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ পাঠ করানোর কোনো আইনি এখতিয়ার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) নেই। তিনি সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের ২(ক) উপ-দফার উল্লেখ করে বলেন, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ পাঠ করাতে অপারগ হলে সিইসি শুধু সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানোর ক্ষমতা রাখেন। কিন্তু বিদ্যমান সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ বলে কোনো পদের অস্তিত্ব বা তাঁদের শপথ পড়ানোর কোনো বিধান সিইসির জন্য বরাদ্দ নেই।
শপথ অনুষ্ঠানের আগে সাদা ও নীল রঙের দুটি ফরম হাতে নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি এবং বর্তমান সংবিধানে এখনও বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। গণভোটের রায় অনুযায়ী এই পরিষদ গঠিত হলেও, আগে তা সংবিধানে ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি এই পরিষদের সদস্যদের শপথ কে পাঠ করাবেন, তার সুনির্দিষ্ট বিধান তৈরি করতে হবে।
তাঁর মতে, এই ধরনের শপথের ফরম সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে যুক্ত করতে হবে এবং সংসদে আইন পাশের মাধ্যমে তা গৃহীত হওয়ার পরই শুধু শপথ নেওয়া সম্ভব। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বিএনপি সংবিধান মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কোনো অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চায় না।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে হলে প্রথমে সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও সংবিধান সংশোধন করতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, “জুলাই জাতীয় সনদ আমাদের কাছে একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল। আমরা এই সনদে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
বিএনপির এই অবস্থানের ফলে নবগঠিত সংসদে সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়াটি সরাসরি আইনি তর্কের মুখে পড়ল। দলটি মনে করে, আগে সংসদীয় কাঠামোর ভেতর দিয়ে আইনি ভিত্তি তৈরি না করে সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম শুরু করা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে সাংবিধানিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।