দেশের বিচার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধে নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ একগুচ্ছ নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার এবং বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তসহ বেশ কিছু স্পর্শকাতর বিষয়ে আলোকপাত করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকার করেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর একটি সুবিধাবাদী শ্রেণি ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আক্রোশ মেটাতে শত শত, এমনকি হাজার হাজার মানুষকে আসামি করে গণহারে মামলা করেছে। তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে এই মামলাবাজি বন্ধ করতে হবে। সরকার বর্তমানে এই মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করছে যাতে নির্দোষ কেউ হয়রানির শিকার না হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের উদাহরণ টেনে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধেও অসংখ্য হত্যা, অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলা রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হবে, তবে হত্যা, মাদক এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের মামলাগুলো এই তালিকার বাইরে থাকবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, বিগত 'ফ্যাসিস্ট' সরকারের আমলে (২০০৯-২০২৪) বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের দমনে করা ১ হাজার ২০২টি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর আগে গত রোববার আরও ১ হাজার ৬টি মামলা তুলে নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার ব্যক্তিদের বিচারিক প্রক্রিয়া থেকে মুক্তি দিতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ২০০৯ সালের পিলখানা বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিশন গঠন করবে। কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হবে। এটি সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিরও অংশ বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যগুলো থেকে এটি প্রতীয়মান হয়, সরকার বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে চাইছে। একদিকে যেমন বিগত আমলের হয়রানিমূলক মামলা থেকে বিরোধী দলকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে ৫ আগস্ট পরবর্তী নতুন মামলাগুলোতে যাতে কেউ হয়রানি না হয়, সেদিকেও নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের সিদ্ধান্তটি দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল বৃদ্ধি এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।