মার্কিন আগ্রাসন ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ইরানি রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য

মধ্যপ্রাচ্যে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা মার্কিন আগ্রাসন ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী। তিনি অভিযোগ করেন, ওমানের মধ্যস্থতায় যখন শান্তিপূর্ণ আলোচনা চলছিল, ঠিক তখনই ইসরাইলের উসকানিতে আমেরিকা এই যুদ্ধ শুরু করে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে সংকটে ফেলেছে। বুধবার (১ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, যুদ্ধের নামে স্কুল, কলেজ ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে শিশুদের হত্যা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মানবাধিকারের দোহাই দিয়ে আমেরিকা ও ইসরাইল যে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, তা মূলত ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ।

তিনি দাবি করেন, ইরানের প্রযুক্তি ধ্বংস ও ইউরেনিয়াম উদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে শুরু করা এই অভিযানে আমেরিকা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে এখন পালানোর পথ খুঁজছে। ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ১৪টি ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে এবং তারা পারস্য উপসাগর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত জানান, হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা বাংলাদেশের ৬টি জাহাজ ফেরত পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিল। বাংলাদেশিদের মুক্ত করতে সহায়তার জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন। তবে যুদ্ধ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থানের বিষয়ে তিনি কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

তিনি মনে করেন, কেবল উদ্বেগ প্রকাশ নয়, বরং এই আগ্রাসনের সরাসরি নিন্দা জানানো প্রয়োজন ছিল। এই বিষয়টি কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে নয়, বরং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের খাতিরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জানানো হবে।

জাহানাবাদী আরও উল্লেখ করেন, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বর্তমানে শক্তিশালী দেশগুলোর হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। তাই নিজেদের নিরাপত্তা নিজেদেরই নিশ্চিত করতে হবে। আমেরিকা বর্তমানে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও ইরান তাতে সাড়া দেয়নি, তবে তুরস্ক বা পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর মধ্যস্থতাকে তারা স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী করতে চায় না, তবে যেকোনো মূল্যে নিজেদের রক্ষা করতে তারা সক্ষম বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।