এমপি গাজী নজরুলের সিদ্ধান্ত স্পিকারের চিঠির পর: ইসি সচিব

নৈতিক স্খলনের দায়ে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে জাতীয় সংসদ থেকে এখনো কোনো চিঠি পায়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। স্পিকারের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাওয়ার পরই তার সংসদ সদস্য পদের বিষয়ে আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

ইসি সচিব বলেন, স্পিকারের পক্ষ থেকে চিঠি পাওয়ার আগে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের নেই। সংসদ থেকে চিঠি হাতে পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে নীতিগত কারণ দেখিয়ে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলামী। এরপর দলটির পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) চিঠি দিয়ে বিষয়টি অবহিত করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

এদিকে এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তাকে ও তার প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার শেরেবাংলা নগর থানার ওই মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে আদালতে হাজির করা হয়। বর্তমানে তাদের চিফ মেটোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। পরে গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

এর আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের পাঁচ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মোছা. মরিয়ম খাতুনের ফ্যানে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ। এই ঘটনায় নিহত মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।