বহু বছর পর নানাবাড়িতে এসে আনন্দিত প্রধানমন্ত্রী

নিজ নানাবাড়ি ফেনীতে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও সমাবেশে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার সফর করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দীর্ঘ বহু বছর পর মায়ের পৈতৃক ভিটায় পা রেখে স্মৃতির সাগরে ভেসে যান প্রধানমন্ত্রী। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, খুব সম্ভবত ১৯৮৪ সালে এসেছিলাম, এরপর ১৯৯১ সালে। আজ বহু বছর পর আবার নানাবাড়িতে আসলাম।

ফেনীর নদীমাতৃক অঞ্চলের মানুষের কথা উল্লেখ করে তিনি অঙ্গীকার করেন, দেশসেবার পাশাপাশি নানাবাড়ির মানুষের ভাগ্যোন্নয়নেও তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাবেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীকে স্থায়ী বন্যার হাত থেকে রক্ষা করতে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ এবং মুহুরী নদী খনন কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।

নদী খননের অঙ্গীকার পালনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে এক সুধী সমাবেশে তিনি বলেন, ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম এই নদীটি খনন করব, আজ আমরা সেই কথা বাস্তবায়ন করতে এসেছি।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম ফেনী সফর। সকালে নিজ বাসভবন থেকে সাধারণ বাসে চেপে সড়কপথে পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান এবং দুপুর ২টায় পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় পৌঁছান।

সমাবেশে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে চক্রান্তকারীদের হুঁশিয়ার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "কিছু রাজনৈতিক দল অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল তা আপনারা সবাই দেখেছেন। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কয়েকটি আসন পেয়ে তারা নানা অপকর্ম করছে। তারা আমাদের নীতিকথা শেখাতে আসে, আমরা বলব, দয়া করে আগে নিজেদের দিকে তাকান।

উন্নয়নের অঙ্গীকার ও রাজনীতির সময়োপযোগী এই বার্তায় পুরো ফেনীজুড়ে বইছে আনন্দের বন্যা।