ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের বন্যা ও নদীভাঙন রোধে বহুল প্রতীক্ষিত ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা দুইটা ১০ মিনিটে ঢাকা থেকে সড়কপথে সরাসরি ফেনীর পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছে তিনি এই উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন।
উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন শেষে প্রধানমন্ত্রী সেখানে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের খাল খনন কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
এর আগে ঢাকা থেকে সড়কপথে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছালে ফেনী-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু তাকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ভিপি জয়নাল আবেদীন, ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় জেলা নেতৃবৃন্দ।
প্রতিবছর ভারত থেকে আসা উজানের পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় মুহুরী নদীর বাঁধ ভেঙে ফেনীর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে স্থানীয়দের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, রাস্তাঘাটসহ নানা অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়ে আসছিলো। এলাকার মানুষের এ স্থায়ী দুর্ভোগ নিরসনে বর্তমান সরকার নদীটিতে টেকসই বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এক হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, প্রায় ৬৮ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, নদীর তীর সংরক্ষণ এবং গুরুত্বপূর্ণ সেচ অবকাঠামো সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করা হবে। প্রকল্পটি পুরোদমে বাস্তবায়িত হলে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা ও নদীভাঙনের ভয়াবহতা অনেকাংশে কমে আসবে।
প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন ও উদ্বোধন শেষে স্থানীয় গ্রামবাসীদের আয়োজনে আয়োজিত এক জনসমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
