এসএসসিতে অকৃতকার্যদের তিন মাসের মধ্যে পরীক্ষা, ভাবছে সরকার

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক বছর অপেক্ষা করানোর প্রচলিত নিয়ম বদলানোর কথা ভাবছে সরকার। ফলাফল প্রকাশের তিন মাসের মধ্যে এসব শিক্ষার্থীর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক শিক্ষা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। 

গণসাক্ষরতা অভিযান ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী সম্মেলন’ শীর্ষক এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এবারের এসএসসি ও সমমানের ফলাফলে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হলেও অকৃতকার্য হয়েছে ছয় লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন। সাধারণ নিয়মে পাবলিক পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের পরবর্তী বছরের জন্য পুরো একটি বছর অপেক্ষা করতে হয়। তবে এই দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মনোবল ধরে রাখতে এবং তাদের শিক্ষাজীবন থেকে মূল্যবান এক বছর নষ্ট হওয়া রোধ করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে—সম্ভবত ফলাফলের তিন মাসের মধ্যেই বিশেষ পরীক্ষা নেওয়ার কথা ভাবছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া অকৃতকার্য শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা নিজেদের ব্যর্থতার পেছনের গল্প এবং নানা প্রতিকূলতার কথা নীতিনির্ধারকদের সামনে তুলে ধরেন। এ সময় ছয় লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর অভিভাবকত্ব ও দায়িত্ব সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতার সঙ্গে রাষ্ট্র নেবে বলে আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

একই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের শিক্ষা কার্যক্রমে কাঠামোগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে আগামী দিনে শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, শিক্ষকদেরও কঠোর মূল্যায়নের আওতায় নিয়ে আসবে সরকার। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক, অকৃতকার্য শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সম্মেলনে শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন ত্রুটি ও তা উত্তরণের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।