উচ্চ বেতনের চাকরির লোভনীয় আশ্বাসে কম্বোডিয়ায় গিয়ে অনলাইন স্ক্যাম সেন্টারের অন্ধকার জগতে আটকা পড়া ৩০ জন বাংলাদেশি অবশেষে দীর্ঘ মুক্তিকষ্ট শেষে দেশে ফিরে এসেছেন।
কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনের ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে থাই এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেন তারা।
স্বদেশে ফিরে আসা এই ৩০ জন বাংলাদেশি হলেন- মো. হারুন অর রশীদ, মো. আব্দুল ওয়াদুদ, মো. তারলিব হাসান তিতুল, সুমিত চন্দ্র দাস, রাকিব হোসেন, বাপ্পি দাস, মো. লাবন শেখ, মো. আবদুর রহমান, মো. বিল্লাল হোসেন, মো. মোস্তফা, নূর নবী, মো. ইমন আলী, মো. বারকাতুল্লাহ, মো. রুবেল মিয়া, আলী আহমেদ, জাহিদুল ইসলাম, শামসুল আলম, মো. আবদুর রহমান (২), আবু জাহের সবুজ, শাওন, নাহিদ ঢালি, রাজু হোসেন, মো. তৈয়ব আলী শেখ, সাইমন ভূঁইয়া, মো. রাশেদুল, মো. আকাশ আহমেদ, মো. শিমুল আলী, আশিকুর রহমান, মো. আলামিন পিকে এবং মোহাম্মদ কবির।
ভুক্তভোগীদের বিবরণ সূত্রে জানা যায়, কাজের সন্ধানে কম্বোডিয়ায় পাড়ি জমিয়ে তারা দেশটির বিভিন্ন অনলাইন স্ক্যাম সেন্টারে প্রতারক চক্রের হাতে বন্দি ও নিগৃহীত হন।
পরবর্তীতে কম্বোডিয়া সরকার বেআইনিভাবে অবস্থানরত বিদেশি কর্মীদের বিনা জরিমানায় দেশে ফেরার বিশেষ সুযোগ দিলে তারা নিজ উদ্যোগে দেশে ফেরার জন্য নাম নিবন্ধন করেন।
সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ৩ সেপ্টেম্বর তারা নমপেন বিমানবন্দরে পৌঁছান। কিন্তু বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় অবৈধ অবস্থান ও ভিসা জটিলতার অভিযোগে দেশটির ইমিগ্রেশন পুলিশ ৩২ জন বাংলাদেশিকে আটক করে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠায়।
পরবর্তীতে তাদের মধ্য থেকে দুজন মুক্তি পেয়ে আগে দেশে ফিরলেও বাকি ৩০ জনকে নমপেনের ডিটেনশন সেন্টারে আটকে রাখা হয়েছিল।
এমতাবস্থায় ‘অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন’ নামের একটি মানবধিকার ও ভুক্তভোগী সহায়তা সংগঠনের জরুরি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্যোগ নেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিষয়টি জানার পর ব্যাংককে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম শাখার প্রথম সচিবকে অবিলম্বে আটক বাংলাদেশিদের আইনি মুক্তি ও দ্রুততম সময়ে দেশে ফেরানোর প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
দূতাবাস ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সার্বক্ষণিক কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং আইনি প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে সম্পন্ন করার পর অবশেষে এই ৩০ বাংলাদেশি মুক্তির সনদ পান এবং স্বদেশের মাটিতে পা রাখেন। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন পার করে স্বজনদের কাছে ফিরতে পেরে বিমানবন্দরেই কান্না ও স্বস্তিতে ভেঙে পড়েন দেশে ফেরা এই তরুণরা।