আইজিপির বক্তব্য সরকারকে ভাবমূর্তিতে আঘাত করবে: রিজভী

সস্তা বাহবা নেয়ার জন্য পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) দেওয়া ক্রসফায়ারসংক্রান্ত বক্তব্য দেশের ক্ষতি করবে এবং সরকারের ভাবমূর্তিতে মারাত্মক আঘাত হানবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর সমালোচনা করেন।

আইজিপির সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে রিজভী বলেন, একটি পুলিশ বাহিনীর প্রধান সরকারেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অথচ তিনি কীভাবে ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কথা বলেন? যদি এটি মুখ ফসকে বা ‘স্লিপ অব টাং’ হয়ে থাকে, তবে তা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের বক্তব্য শুধু সরকারকে বিব্রতই করছে না, বরং সচেতন মহকেও গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলছে। পুলিশ বাহিনীতে বহু সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি তাঁদের যথাযথভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান এবং নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করলে সমাজে অপরাধ কমে আসবে বলে মত দেন।

যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সামাজিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, দেশের তরুণ সমাজকে বিশৃঙ্খল না করে তাঁদের দক্ষ ও কর্মক্ষম করে তোলার মাধ্যমে জাতীয় উৎপাদন ও উন্নয়নের মূল অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। প্রান্তিক কৃষক ও দরিদ্র মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘কৃষক কার্ড’-এর মতো দূরদর্শী উদ্যোগ গ্রহণের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, অর্থনীতিবিদদের গবেষণাও বলছে যে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে দেশে দারিদ্র্যের হার দ্রুত হ্রাস পাবে। এছাড়া পরিবেশ রক্ষায় দেশজুড়ে কোটি কোটি গাছ ও তালগাছ লাগানোর মতো যুগান্তকারী পরিকল্পনাও রয়েছে।

এর আগে সকালে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের নিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান রুহুল কবির রিজভী। এ সময় তিনি গণতন্ত্র রক্ষা, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরানোর আন্দোলনে যুবদলের অসামান্য আত্মত্যাগ ও ভূমিকার উচ্চ প্রশংসা করে বলেন, আগামী দিনেও তারেক রহমানের সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করে যাবে জাতীয়তাবাদী যুবদল।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া, ফেরদৌস মুন্না, এজমাল হোসেন পাইলট এবং সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেকসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।