পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের আলোচিত ‘ক্রসফায়ার’সংক্রান্ত বক্তব্যকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে একথা জানান, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রী।
তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার কোনোভাবেই ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমর্থন করে না এবং এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। আইজিপির ওই মন্তব্য প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘উনি (আইজিপি) সহজ–সরল মানুষ। আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয়ে বলতে গিয়ে অসতর্কতাবশত কথাটি বলে ফেলেছেন। এটা ঠিক হয়নি, উচিত হয়নি’।
উল্লেখ্য, গত সোমবার রাজধানী ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে আইজিপি আলী হোসেন ফকির মন্তব্য করেছিলেন যে, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করা হবে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে এক পক্ষ তাদের ফ্যাসিস্ট বলে, আবার নিষ্ক্রিয় থাকলে দুর্বল তকমা দেয়।
তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ জানানো হয়। সমালোচনার মুখে পড়ে সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি ব্যাখ্যা দিয়ে জানানো হয় যে, আইজিপি বিচারবহির্ভূত শাস্তির অর্থে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি, বরং অপরাধ দমনে কঠোর আইন প্রয়োগের বিষয়টি বোঝাতেই তিনি ওই শব্দ চয়ন করেছিলেন।
এদিকে এ বিষয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু (কাস্টোডিয়াল ডেথ) কখনোই সহ্য করবে না এবং এ বিষয়ে সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমান মেয়াদে এখন পর্যন্ত কোনো ক্রসফায়ার বা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। অপরাধ দমনে এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে যা যা করা প্রয়োজন, সরকার আইনানুগভাবেই তা করবে।
এর আগে একই দিনে রাজধানীর নয়াপল্টনে যুবদলের একটি অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীও আইজিপির বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে একে সরকারের জন্য বিব্রতকর বলে মন্তব্য করেন। দীর্ঘদিন গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে লড়াই করা রাজনৈতিক শক্তির সরকার আমলে পুলিশপ্রধানের মুখে এমন কথা তাদের ভাবিয়ে তুলছে বলে জানান তিনি। সব মিলিয়ে আইজিপির একটিমাত্র মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক অস্বস্তি দূর করতে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে দ্রুত এবং কড়া বার্তা দেয়া হলো।