পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন দেশের মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রক্রিয়ায় এক ঐতিহাসিক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে কেন্দ্রটিতে দ্বিতীয় দফার পারমাণবিক বিক্রিয়া শেষ হবার পর ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটে ‘পাওয়ার স্টার্টআপ স্টেজ-সি’ তথা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর তৃতীয় পর্যায়ের কাজ পরিচালনার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়। শুক্রবার রাতেই নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানির (এনপিসিবিএল) পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
স্টেজ-সি বা তৃতীয় পর্যায়টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমিশনিং প্রক্রিয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। এই পর্যায়ে চুল্লির ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, কুলিং সিস্টেম বা শীতলীকরণ ব্যবস্থা, টারবাইন-জেনারেটর, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সমন্বিত কার্যকারিতা নিবিড় পরীক্ষা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে চুল্লির শক্তি উৎপাদনক্ষমতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করে টারবাইনের নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষাব্যবস্থা এবং জেনারেটরের কার্যক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে। এই ধাপের মূল লক্ষ্য হলো যাবতীয় পরীক্ষামূলক প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ করে প্রথম ইউনিটের জেনারেটরকে জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা। সরকার আশা প্রকাশ করছে যে, আগামী নভেম্বরের মধ্যেই এই কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কঠোর নির্দেশনা ও রুশ সহযোগিতায় এগিয়ে চলা এই প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটেও এসেছে বড় অগ্রগতি। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দ্বিতীয় ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরে প্রাথমিক জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু হয়েছে। আগামী বছরের জুনের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের ফুয়েল লোডিং বা রিঅ্যাক্টর চালুর কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।