ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ইচ্ছেমতো শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ এবং শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে সাভারের আশুলিয়া ও গাজীপুরের কালিয়াকৈর শিল্পাঞ্চল।
রোববার সকালের দিকে কারখানাগুলোতে কাজ স্বাভাবিক থাকলেও দুপুরের পর থেকে চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আন্দোলনরত শ্রমিকেরা রাজপথে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ, পিকআপ ভ্যান ও কারখানার ঝুট গুদামে অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় জড়িয়ে পড়েন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সাভারের আশুলিয়ায় অর্ধশতাধিক এবং গাজীপুরের কালিয়াকৈরে কমপক্ষে ৩০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
আশুলিয়ায় ৫০ কারখানায় ছুটি ও সড়ক অবরোধ
শিল্প পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, সকালের দিকে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার আল-মুসলিম অ্যাপারেলস, নিউএইজ গ্রুপ ও ট্রাউজার লাইন লিমিটেডের শ্রমিকেরা কারখানায় প্রবেশ করে কাজ বন্ধ রেখে অবস্থান নেন। পরবর্তীতে পৌনে ১১টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় শারমিন গ্রুপের সামনে বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়কে অবস্থান নেন কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা।
একপর্যায়ে অন্যান্য কারখানার শ্রমিকদের সংহতি জানানোর আহ্বানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে নরসিংহপুরের শারমিন গ্রুপ, হা-মীম গ্রুপ, নিউএইজ ও অনন্ত গার্মেন্টসসহ আশপাশের প্রায় ৫০টি কারখানায় পর্যায়ক্রমে ছুটি ঘোষণা করা হয়। অনন্ত গার্মেন্টসের সামনে শ্রমিকেরা সড়ক আটকে অবস্থান নিলে নিবৃত্ত করার চেষ্টাকালে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে শ্রমিকদের শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়। আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শ্রমিক অসন্তোষের মুখে নিরাপত্তাজনিত কারণে আশুলিয়ার অর্ধশতাধিক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং মাঠে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
গাজীপুরে পিকআপ ও ঝুট গুদামে আগুন, ফায়ার সার্ভিসকে বাধা
অন্যদিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। সকালে কালিয়াকৈরের রতনপুর এলাকার করনী নিট কম্পোজিট ও নিট এশিয়াসহ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে সফিপুর বাজারে মহাসড়কে অবস্থান নেন।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর ট্রপিক্যাল নামের একটি পোশাক কারখানার ঝুটের গোডাউনে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধরা। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করলে আন্দোলনরত শ্রমিকেরা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আটকে বাধা দেন।
কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম জানান, শ্রমিক আন্দোলনের বাঁধার কারণে তারা সময়মতো আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেননি। গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন জানান, অসন্তোষ ছড়ানোর কারণে গাজীপুরে অন্তত ৩০টি কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে।
দাবি ও তথ্য না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন জানান, শ্রমিকেরা প্রধানত তিনটি দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছেন, যার শীর্ষেই রয়েছে ৩০ হাজার টাকা সর্বনিম্ন মজুরি। সরকার আজ মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো আলোচনা করেনি। ফলে শ্রমিকেরা চরম ধোঁয়াশার মধ্যে পড়েছেন এবং তথ্যের অভাবের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। মালিকপক্ষকে দ্রুত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্পষ্ট করার আহ্বান জানান এই শ্রমিক নেতা।