ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধের দাবিতে রাজধানী ঢাকার প্রবেশমুখ গাজীপুর এবং সাভারের আশুলিয়ায় তুমুল বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। আন্দোলনের মুখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার এলাকার সমস্ত পোশাক কারখানা আজ শনিবার দুপুরের পর ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরের পর গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে প্রথমে ‘ইন্টারস্টপ’ কারখানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের বিভিন্ন কারখানার শত শত শ্রমিক এসে তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন। এর ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরবচ্ছিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে শুধু গাজীপুরেই নয়, তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকরা একই দাবিতে সাভারের আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলেও বিক্ষোভ করেছেন। সেখানে বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা সড়কে নেমে আন্দোলন করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাপাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে এক শিল্প পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির বাজারে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জোরালো হয়ে উঠছে। আজকের এই আকস্মিক বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ফলে শিল্পাঞ্চল জুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ও শিল্প পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
