ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন, সড়ক অবরোধ ও সহিংসতার কারণে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের শিল্পাঞ্চলগুলো।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং কারখানার নিরাপত্তায় সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরের অন্তত পৌনে ৩০০ পোশাক কারখানায় রোববারের জন্য ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া রাজধানীর মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিক ও অনুপ্রবেশকারী নাশকতাকারীদের সংঘর্ষ, মেট্রোরেল বন্ধ এবং যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর ২৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
সাভার-আশুলিয়ায় ১৭৭ কারখানা বন্ধ ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ: শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল থেকে সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন পয়েন্টে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। একপর্যায়ে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানা কর্তৃপক্ষ কাজ বন্ধ রেখে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।
শিল্প পুলিশ-১ এর (আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল) পুলিশ সুপারমুমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বিকেলে নিশ্চিত করেন, সকাল থেকে শ্রমিকদের আন্দোলন ও অসন্তোষের মুখে নিরাপত্তা বিবেচনায় সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের ১৭৭টি তৈরি পোশাক কারখানা রোববারের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে বিকেলের দিকে বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিক একজোট হয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুরে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ সৃষ্টি করেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে পড়ে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
গাজীপুরে শতাধিক কারখানা ছুটি, গুদাম ও গাড়িতে আগুন: অন্যদিকে শিল্প পুলিশ-২ এর (গাজীপুর) পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, রোববার সারাদিনে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের শতাধিক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। দুপুরের দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধের মধ্যে একটি কারখানার গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি পুলিশেরর একটি গাড়িতেও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধরা।
মিরপুরে সংঘাত, মেট্রোরেল বন্ধ ও ২৮ জন আটক: রাজধানীর মিরপুর এলাকায় সকাল থেকেই সর্বনিম্ন বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাস্তায় নামেন শ্রমিকেরা। মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ পর্যায়ক্রমে মিরপুর-১১, ১২ ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ অবরোধ সরাতে গেলে দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়, যা দুপুর ২টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
সংঘর্ষের কারণে মিরপুরের প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, ফলে সাধারণ যাত্রী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষকে চরম ভোগান্ত পোহাতে হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত নিরাপত্তার স্বার্থে মিরপুর-১০, ১১ ও পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে এমআরটি কর্তৃপক্ষ।
পরবর্তীতে ডিবির সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। এ সময় সহিংসতার উসকানি দেওয়া এবং নাশকতার অভিযোগে ২৮ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
ছদ্মবেশ আ.লীগ ছাত্রলীগ, ইন্ধনে জামায়াত-এনসিপি: রাশেদ খান
শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বড় নাশকতার ছক!
শ্রমিকদের কারখানায় ফেরার আহবান শ্রমমন্ত্রীর