শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বড় নাশকতার ছক!

  • আ. লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ২৮ নেতাকর্মী আটক
  • নেপথ্যে সাবেক এমপি ইলিয়াস মোল্লার ভাগ্নে আলিফ
  • বাইরের জেলা থেকে লোক এনে সংঘাত সৃষ্টির চেষ্টা
  • মিরপুরে সহিংসতার নিষিদ্ধ সংগঠনেরর অনুপ্রবেশ
  • আন্দোলনের ছবি দিয়ে ফেসবুকে একাধিক পোস্ট

Mirpur Clash 05
রাজধানীর মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবির আন্দোলনকে পুঁজি করে বড় ধরনের সহিংসতা, নাশকতার চেষ্টা এবং পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয়ার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠনের অন্তত ২৮ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে ১১ জনকে মিরপুর-১০ ও আশপাশের এলাকা থেকে সরাসরি নাশকতার পরিকল্পনা ও সংঘর্ষের সময় আটক করেছে ডিবি মিরপুর বিভাগ। আর সহিংসতা চালিয়ে মিছিল বের করার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বাকি ১৭ জনকে আটক করেছে ডিএমপির মিরপুর বিভাগ।

রোববার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খান এবং ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) আবু নাসের রিকাবদার।

Unrest Criminal 2
বাইরের জেলা থেকে লোক এনে নাশকতার সমন্বয়:
ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান জানান, পোশাকশ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির আন্দোলনের আড়ালে সাধারণ শ্রমিকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একশ্রেণীর রাজনৈতিক চক্র অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, আটক নেতাকর্মীদের মধ্যে বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার ও গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলার তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা রয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঢাকার পল্লবী ও রূপনগর (ঢাকা-১৬ আসন) এলাকার পলাতক সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর ভাগ্নে আলিফ মোল্লাহ এই নাশকতার মূল ‘সমন্বয়ক’ হিসেবে কাজ করছেন। আলিফই বিভিন্ন জেলা থেকে দলীয় কর্মীদের ঢাকায় সংগঠিত করে মিরপুরে এনেছেন। রোববারের এই সহিংসতায় প্রায় শতাধিক রাজনৈতিক নেতাকর্মী সাধারণ শ্রমিকদের সঙ্গে মিশে উপস্থিত ছিলেন। তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রাকিব ও আরিফ নামের দুজনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে, বাকিদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Unrest Criminal 1
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট ও ছাত্রলীগের অনুপ্রবেশের অভিযোগ:
আন্দোলন ঘিরে নতুন করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ছাত্রলীগ নেতার পোস্ট সামনে এসেছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, সাধারণ আন্দোলনকারী শ্রমিকদের মাঝে অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে একটি গোষ্ঠী সহিংসতা উসকে দিচ্ছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজিবুল ইসলাম রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আন্দোলন সংক্রান্ত একাধিক ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। দুপুর ২টা ১৭ মিনিটে দেয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, আওয়ামী লীগ কারও ওপর ভর করে নয়, জনগণের শক্তি নিয়ে ক্ষমতায় আসার কর্মসূচি দেবে। এর আগে তিনি শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা বেতনের আন্দোলনের নানা ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেন, যা নাশকতায় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।

Mirpur Clash 06
পুলিশের অবস্থান ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি:
রোববার বেলা ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বরে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে থাকা পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও টিয়ারশেল-সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মেট্রোরেলের পল্লবী, মিরপুর-১১ ও মিরপুর-১০ নম্বর স্টেশনে ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখতে হয়।

দুপুরে সংঘর্ষ শেষে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে সাংবাদিকদের ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মহিদুল ইসলাম বলেন, আন্দোলনকারী সাধারণ শ্রমিকদের আড়ালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্যরা ঢুকে পড়ে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে। জনভোগান্তি কমাতে ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য নিয়ে সড়ক মুক্ত করেছি।