শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবেলায় জরুরি সভায় বসছেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর মিরপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে চলমান আন্দোলন ও সহিংসতার প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে জরুরি বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অর্থ, স্বরাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাকে নিয়ে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী তাঁর পূর্বনির্ধারিত সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর বাতিল করেছেন এবং রোববার দুপুর ১টার দিকে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সার্বিক পরিস্থিতি অবহিত করেন।

এর আগে রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণের জন্য ৬ সদস্যের একটি ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

শ্রম আইন অনুযায়ী গঠিত এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সিনিয়র জেলা জজ শেখ আশফাকুর রহমান। এছাড়া মালিক ও শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধিসহ চারজন সদস্য এবং একজন নিরপেক্ষ সদস্যকে এই বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে শ্রমমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল মজুরি বোর্ড গঠন, যা আজ কার্যকর করা হলো। আমরা আশা করি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বোর্ড বসে তাদের ন্যূনতম মজুরির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। শ্রমিক ভাইয়েরা এখন রাজপথের আন্দোলন ছেড়ে নিজ নিজ কারখানায় কাজে যোগ দেবেন।" তিনি জানান, শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনগুলোতে মালিক ও শ্রমিকপক্ষকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে আজই (রোববার) বোর্ড ঘোষণা করা হবে।

মজুরি বোর্ড গঠনের পরও রাজধানীর মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের আন্দোলন ও সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সরকার। শ্রমমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে। শ্রমিকদের সামনে রেখে ভেতরে অন্য কোনো গ্রুপ ফায়দা হাসিল করতে চাচ্ছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি ছাত্রসংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদককে শ্রমিক সেজে আন্দোলনে অংশ নিতে দেখা গেছে, যার প্রমাণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও রয়েছে।

বিশেষ করে ডিসেম্বর মাসকে লক্ষ্য করে দেশবিরোধী শক্তি দেশকে অশান্ত করার গভীর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে মনে করছে নীতিনির্ধারক মহল। উদ্ভূত এই সংকট স্থায়ীভাবে নিরসন এবং কঠোরহস্টে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে আজ সন্ধ্যার বৈঠকে সুনির্দিষ্ট কিছু কর্মপরিকল্পনা ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।