আমিনবাজারে ছয় ছাত্র হত্যায় ১৩ ফাঁসি, ১৯ যাবজ্জীবন

সাভারের আমিনবাজারে ২০১১ সালের ১৭ জুলাই শবে বরাতের রাতে ছয় ছাত্র হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৯ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ইসমত জাহানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। এছাড়াও মামলার ২৫ আসামিকে বেকসুর খালাস এবং তিনজন মারা যাওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আনন্দ চন্দ্র বিশ্বাস এ তথ্য জানান।

এর আগে, গত ২২ নভেম্বর আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য আজকের তারিখ ধার্য করেন।

সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে মোঃ আব্দুল মালেক, সাঈদ মেম্বার, আব্দুর রশীদ, ইসমাইল হোসেন, নিহার জমশের আলী, মীর হোসেন, মজিবুর রহমান, আনোয়ার হোসেন, রজ্জব আলী, আলম, মোঃ রানা, আবদুল হামিদ ও মোঃ আসলাম মিয়াকে মৃত্যদন্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং আরেক ধারায় সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

আরও পড়ুন:  কাউন্সিলর হত্যার প্রধান আসামি বন্দুকযুদ্ধে নিহত

এছাড়াও শাহীন আহমেদ, মোঃ ফরিদ খান, মোঃ রাজীব হোসেন, মোঃ ওয়াসিম, সাত্তার, মোঃ. সেলিম, মনির হোসেন, আলমগীর ওরফে অভি মিয়া, মোবারক হোসেন, অখিল খন্দকার, বশির, রুবেল, নূর ইসলাম, শাহাদাত হোসেন ওরফে জুয়েল, টুটুল, মাসুদ, মোখলেস, তোতন, সাইফুলকে এক ধারায় যাবজ্জীবন এবং আরেক ধারায় সাত বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ১৭ জুলাই শবে বরাতের রাতে আমিনবাজারের বড়দেশী গ্রামের কেবলাচরে ঘুরতে যান সাত বন্ধু। ডাকাত সন্দেহে তাদের মধ্যে ছয় জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর ডাকাতির অভিযোগে আহত আল-আমিনসহ নিহতদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় ডাকাতির মামলা করেন স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী আবদুল মালেক। অন্যদিকে পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা গ্রামবাসীদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করে।

ওই ঘটনায় নিহতরা ছাত্ররা হলেন—ধানমন্ডি ম্যাপল লিফের ‘এ’ লেভেলের ছাত্র শামস রহিম, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক শ্রেণির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ইব্রাহিম খলিল, বাঙলা কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তৌহিদুর রহমান পলাশ, তেজগাঁও কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র টিপু সুলতান, মিরপুরের বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সিতাব জাবীর মুনিব এবং বাঙলা কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র কামরুজ্জামান কান্ত।

আরও পড়ুন: পাওনা টাকা নিতে গিয়ে গৃহবধূ গণধর্ষণের শিকার

এ ঘটনায় নিহতদের বন্ধু আল-আমিন গুরুতর আহত হলেও বেঁচে যান। ২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারি তদন্ত শেষে র‌্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন আহমেদ ৬০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এরপর ২০১৩ সালের ৮ জুলাই আদালত ৬০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু করেন। বিচার চলাকালে মামলায় ৫৫ জন সাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ঘটনার পর এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে ১৪ আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন।


একাত্তর/টিএ/এসজে