৫০ বছর পর পুননির্মাণ হলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে ধ্বংসপ্রাপ্ত রমনা কালী মন্দির। শুক্রবার সকালে পুনর্নির্মিত এই ঐতিহাসিক মন্দির উদ্বোধন করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।
রমনা কালী মন্দিরে আনুষ্ঠানিকতার পর তিন দিনের সফর শেষে দুপুরে ঢাকা ছেড়ে যান ভারতের রাষ্ট্রপতি।
পাকিস্তানী বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞের স্বাক্ষী রমনার কালী মন্দির। ৭১ সালের ২৭ মার্চ রাতে এই মন্দিরের প্রধান পুরোহিতসহ শতাধিক মানুষকে হত্যা করা হয়।
আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয় মন্দিরের সবকিছু। ধ্বংস করে ফেলা হয় মন্দিরটি। তখন থেকে শুধু অবস্থানটুকু নিয়ে কোন মতে দাঁড়িয়ে ছিলো রমনা কালী মন্দির।
ভারত সরকারের অর্থায়নে ৫০ বছর পর পুনর্নির্মাণ হলো এই মন্দির। বিজয়ের মাসে শুক্রবার সেই পুনর্নির্মিত কালী মন্দির উদ্বোধন করলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।
উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতার পর মন্দিরের ভেতরে পূজা অর্চনায় অংশ নেন ভারতের রাষ্ট্রপতি, তার স্ত্রী সবিতা কোবিন্দ ও মেয়ে স্বাতী কোবিন্দ।
মূল মন্দিরে ঢোকার সময় শাঁখ বাজিয়ে সনাতনী রীতিতে অভিবাদন জানানো হয় ভারতের রাষ্ট্রপ্রতিকে।
প্রার্থনা শেষে মন্দির প্রাঙ্গনে উপস্থিত মন্দির কমিটির সদস্য এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন কোবিন্দ।
পাকিস্তানিদের হাতে ধ্বংস হওয়া মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করতে পেরে ভারত গর্বিত বলে জানান তিনি। পরে সেখান থেকে হোটেলে ফিরে যান তিনি।
রমনা কালী মন্দিরের কার্য নির্বাহী কমিটির সভাপতি উৎপল সাহা জানান, বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় এবং ভারত সরকারের অর্থায়নে মন্দিরটি আবার নতুনরূপে সংস্কার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর যারাই ক্ষমতায় এসেছিল তাদের কেউই মন্দিরটি সংস্কারের উদ্যোগ না নেয়ায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পর সংস্কার করা হলো।
ভারতের রাষ্ট্রপতি কালী মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে চলে যাওয়ার পর, সেখানে পূজা দিতে ভিড় করেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। মন্দিরের নতুন ভবন পেয়ে নিজেদের তুষ্টির কথা জানান তারা।
একাত্তর/এআর