পাওনা টাকা চাওয়ায় পিটিয়ে ফেলে দেওয়া হলো বহুতল ভবন থেকে

টাকা ফেরত চাওয়ায় পাওনাদারকে মারধোর করে বহুতল ভবন থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফিরোজ নামে এক জুতা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। 

বুধবার (২ ফেবরুয়ারী) দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তান ফুল বাড়িয়ার জাকের সুপার মার্কেটে এ ঘটনাটি ঘটে। মার্কেটের তিনতলা থেকে ফেলে দেওয়া আহত ব্যাবসায়ীর নাম হাজী মোঃ রাকিব উদ্দিন শেখ (৪৮)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

আহতের ছোট ভাই রকিব উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, তার ভাইয়েরজাকের সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় 'রিয়া সুজ' নামে একটি ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

একই মার্কেটের ব্যবসায়ী ফিরোজ রাকিবকে একটি দোকান নিয়ে দেয়ার কথা বলে দু'বছর আগে ৩৫ লাখ টাকা নেন। তবে দোকান নিয়ে দিতে না পারায় টাকা ফেরত চাচ্ছিল রাকিব। 

তিনি আরও জানান, টাকা দেই দিচ্ছি বলে দীর্ঘদিনের পাঁয়তারার পর এ নিয়ে রাকিবের সাথে ফিরোজের মধ্যে বিরোধ হয়। পরে ঐ টাকা দেয়ার কথা বলে, ৪/৫ মাস পূর্বে রাকিব উদ্দিনকে ডেকে নিয়ে রমনা থানা এলাকায় মারধর করেন। এ ঘটনার জেরে ফিরোজের বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলা করা হলেও কোন লাভ হয়নি। বরং তার ভয়ে মার্কেটে তেমন একটা যেতে পারতেন না রাকিব। 

জানা গেছে, বুধবার দুপুরে রাকিব উদ্দিন মার্কেটে যান। ঐ মার্কেটের ৫ম তলায় মসজিদে নামাজ পড়ে নামার সময়ে ফিরোজ ১৫/২০ জন সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে রাকিবকে আটকে মারধর করে তৃতীয় তলা থেকে ফেলে দেয়।  সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন। 

একাধিক ব্যাবসায়ীরা ঢামেক হাসপাতালের সামনে অভিযোগ করে বলেন, ঐ এলাকার তিনটি মার্কেটের সভাপতি মোঃ দেলোয়ার। বেশ কয়েক বছর আগে থেকে, দেলোয়ারের কেরানী হিসাবে কাজ করতো এই ফিরোজ। দোকান বরাদ্দ, নাম জারি করিয়ে দেয়ার কথা বলে অনেকের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নেন ফিরোজ। 

আর ব্যাবসায়ী দেলোয়ার ব্যাবসায়ীক কাজে বিভিন্ন দেশেই সময় কাটাতেন বেশি। সেই সুবাধে অবৈধ ভাবে টাকা পয়সা দিয়ে ২৫/৩০ জনের এক বিশাল  সিন্ডিকেট তৈয়ার করে, মার্কেটের আধিপত্য বিস্তার করেন। তার বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেন না ব্যাবসায়ীরা। ফিরোজের সিন্ডিকেটের সদস্যরা মার্কেটের আশপাশের ফাকা যায়গায় দোকান বসিয়ে প্রতিনিয়ত অবৈধ ভাবে টাকা উপার্জন করে।

ওই ব্যবসায়ীদের দাবি, ফিরোজের বিরুদ্ধে রমনা, শ্যামপুর, বংশাল থানার ১০/১২ টি মামলা রয়েছে। তারা এর বিচার দাবি করেন। তারা আরও বলেন, ঐ ফিরোজের সাথে থানায় ভালো যোগাযোগ রয়েছে, বিধায় সে বহাল তবিয়তে মার্কেটে তার লোকজন নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।


একাত্তর/এসএ