বিরাট অংকের ভর্তুকিতে গ্রাহক পর্যায়ে দেয়া লাখ লাখ গ্যাস সিলিন্ডার
অবৈধভাবে চলে যাচ্ছে রাজধানীর বিভিন্ন ভাঙ্গারি দোকানে। রিফিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে
না গিয়ে এগুলো কম দামি স্ক্র্যাপ হিসেবে চলে যাচ্ছে স্টিল মিলে।
এলপি গ্যাসের বাজার স্থিতিশীল রাখতেই সিলিন্ডারের এমন অপব্যবহার বন্ধ করা দরকার বলছেন উৎপাদকরা। মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানি করা সিলিন্ডারের অপচয় বন্ধ করতে দ্রুত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
বাসা-বাড়ি, হোটেল রেস্তোরাঁর কিচেনে নতুন করে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ এক যুগ আগেই বন্ধ করেছে সরকার। তাই সিলিন্ডারের এলপি গ্যাসের এখন বিকল্প নেই।
এখাতে চাহিদা যেমন বেড়েছে, তেমনি ব্যবসায় প্রতিযোগিতাও তীব্র। এ কারণে সব কোম্পানিই ক্রেতাদের কাছে গাসের সাথে সিলিন্ডারগুলো দেয় আমদানি খরচেরও চেয়ে অনেক কম দামে।
দেশে এখন ছোট বড় ২৫ কোম্পানি বছরে ১২ লাখ টনের মতো এলপি গ্যাস আমদানি করে সিলিন্ডারের ভরে পৌঁছে দেয় গ্রাহকের কাছে।
গ্যাস বিক্রির মুনাফা থেকে পর্যায়ক্রমে সিলিন্ডারের ভর্তুকি পুষিয়ে নেয় তারা। কিন্তু সিলিন্ডার ফেরতের হার কমায় এবং সেগুলো অবৈধভাবে ভাঙ্গারিতে যাওয়ায় শত শত কোটি টাকা লোকসানে হচ্ছে এলপিজি খাতে।
সরেজমিন বাজারে গিয়ে জানা যায়, রডের দাম বেড়ে যাওয়ায় কাঁচামাল হিসেবে ভাঙ্গারিতে এবং স্টিল মিলে এলপি গ্যাসের চোরাই সিলিন্ডারের চাহিদা এখন আরো বেড়েছে।
আরও পড়ুন: গত সাত দিন করোনা শনাক্ত কমলেও মৃত্যু বেড়েছে
এদিকে সিলিন্ডারের অবৈধ বিক্রি বন্ধে এলপি গ্যাস কোম্পানিগুলো কুমিল্লায় ও চট্রগ্রামে তিনটি মামলাও করেছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ সামছুল আলম বলছেন, বিচ্ছিন্নভাবে মামলা নয়, রেগুলেটরি কমিটির কাছেই অভিযোগ গেলেই সরকার এমন অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করবে।
জ্বালানি নীতিতে একটি গ্যাস সিলিন্ডার ২০ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়, তবে ১০ বছর হলে সেটির নিরাপত্তা ও উপযোগিতা পরীক্ষা করতে হয়।
একাত্তর/আরবিএস