একুশে বইমেলা চলছে। করোনার প্রকোপে এবারের বইমেলা দেরিতে শুরু হলেও মহামারি পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় মেলার সময় বেড়েছে ১৭ মার্চ পর্যন্ত।
প্রতিদিন মেলায় প্রকাশিত হচ্ছে নতুন নতুন বই। গল্প, কবিতা, সাহিত্য, রাজনীতি, অর্থনীতি, ভ্রমণ, শিশু সাহিত্য শত শত বিষয়ে বই আসছে প্রতিদিন। বহুদিন পর মেলা ঘিরে লেখক, প্রকাশক আর পাঠকদের মিলনমেলা এবারে চোখে পড়ার মতই। লেখক আর সর্বস্তরের আনন্দে আর উচ্ছ্বাসে বইমেলার তেইশটি দিন কেটে গেলো। আজ মেলের চব্বিশতম দিন।
প্রতিবারই বইমেলায় একাত্তর টেলিভিশনে কর্মরত সংবাদকর্মীদের নানান বই প্রকাশ হয়ে থাকে বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে। আজ জানবো এবারের বইমেলায় একাত্তর পরিবারের তিন বই নিয়ে।
পার্থ সনজয়ের ‘কান ডায়েরি, ওহ বাংলাদেশ!’
বিশ্ব চলচ্চিত্রের স্বপ্নের ঠিকানা কান উৎসবে অফিসিয়াল সিলেকশনে ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্থান পাওয়া অবিস্মরণীয় এক অর্জন। সেই আয়োজনের সাক্ষী হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে একটি বই লিখেছেন একাত্তরের সাংবাদিক পার্থ সনজয়। বইয়ের নাম ‘কান ডায়েরি, ওহ বাংলাদেশ!’ বইটি প্রকাশ করেছে নিমফিয়া পাবলিকেশন।
কানের ৭৪তম আসরে আঁ সার্তে রিগা শাখায় জায়গা পেয়ে ইতিহাস গড়ে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের ‘রেহানা মরিয়ম নূর’। তাই করোনাক্রান্ত নতুন স্বাভাবিক সময়ে ঝুঁকি ও ঝক্কি পেরিয়ে বিশ্ব চলচ্চিত্রের স্বপ্নের ঠিকানা কানসৈকতে গিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেন পার্থ সনজয়। এর আগে আরও তিনবার উৎসবটিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেইসব অভিজ্ঞতাও উঠে এসেছে বইতে।
নিজের বই নিয়ে পার্থ সনজয় বলেন, ‘এটাকে কান উৎসব চলাকালীন আমার খেরোখাতায় টুকে রাখা ছোটবড় ঘটনা এবং আনন্দ-বেদনার ছবি বলা যায়। সেইসব বর্ণিল অভিজ্ঞতা আর প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির কথা দিনে দিনে লিখেছি। ইতিউতি ঐতিহাসিক কিছু নিদর্শন ঘুরে দেখার গল্পও আছে।’
‘কান ডায়েরি, ওহ বাংলাদেশ!’ সম্পাদনা করেছেন পার্থ তানভীর নভেদ। বইটির প্রচ্ছদ সাজিয়েছেন শিল্পী সব্যসাচী হাজরা।
সৈকত আমীনের ‘বিপন্ন পুষ্পের প্রলাপ’
এই সময়ের প্রথাবিরোধী কবি হিসেবে সুপরিচিত নাম সৈকত আমীন। তরুণ এই কবি কাজ করছেন একাত্তরে। এবারের বইমেলায় এসেছে তার চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ ‘বিপন্ন পুষ্পের প্রলাপ’। গ্রন্থিক প্রকাশন থেকে বের হওয়া এই বইটির প্রচ্ছদ করেছেন মেহেদী হোসেন ফাহিম।
বইটির প্রসঙ্গে সৈকত আমীন একাত্তরকে বলেন, ‘বিপন্ন পুষ্পের প্রলাপ কাব্যগ্রন্থটি মূলত আমাদের নাগরিক বিষাদের মানচিত্র। নাগরিক জীবনে গিলে ফেলা নির্মম সত্যগুলো, দুঃখগুলো উঠে এসেছে কবিতায়। এছাড়া সেজান জুস কারখানায় নিহত শ্রমিক, যুদ্ধে নিমজ্জিত বিশ্ব রাজনীতি আর অবকাঠামোর শেকলে বাঁধা মানুষের প্রতি মানুষের অনায্যতাই এ বইয়ের কবিতার বিষয়বস্তু।’
আরিফ রহমানের ‘পরবাসে বন্ধু আমার’
এবারের একুশে বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে একাত্তরের আরেক সংবাদকর্মী আরিফ রহমানের নবম বই ‘পরবাসে বন্ধু আমার’। ১৯৭১ সালেন মুক্তিযুদ্ধে বিদেশী বন্ধুদের অজানা সব গল্প-কথা দিয়ে সাজানো হয়েছে কিশোর উপযোগী বইটি। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন রাজ্জাক রুবেল। প্রকাশ করছে গ্রন্থিক প্রকাশন।
বইটি প্রসঙ্গে আরিফ একাত্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধের অনেক অজানা গল্প এই বই থেকে জানা যাবে। ফরাসি যুবকের বিমান ছিনতাইয়ের গল্প থেকে শুরু করে আশিতপ ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর গল্প উঠে এসেছে এই বইতে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পরিসর যে আসলে কতোটা ব্যাপক ছিল তার একটা ঝলক এই বইতে পাওয়া যাবে। আশা করি বইটি পাঠকদের ভালো লাগবে।’
একাত্তর/এআর