বিনিয়োগে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে গ্রাহকের প্রায় ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে প্রতারণার মূলহোতা ও শাহ সুলতান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির চেয়ারম্যান শাহ আলমসহ পাঁচ জনকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
র্যাব জানায়, নরসিংদীতে ২০১০ সালে কাজ শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি, গ্রাহকদের শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়। সমবায় অধিদপ্তরের অনুমোদিত দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখায়।
প্রথম দিকে চুক্তি ও শর্ত অনুযায়ী গ্রাহককে আকর্ষণীয় মুনাফাও দেয়। প্রতি মাসে অধিক মুনাফা পাওয়ায় অনেক প্রবাসীও এই সমবায় সংগঠনে বিনিয়োগ করেন। পরে টাকা হাতিয়ে নিয়ে গত জানুয়ারি থেকে লাপাত্তা হয় প্রতিষ্ঠানটি।
এতে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে এখন পথে বসেছেন হাজারো গ্রাহক। সংসারের দৈন্যদশা ঘোচাতে, একটু সচ্ছল হওয়ার আশায়, কষ্টের টাকা বিনিয়োগ করে এখন মাথায় হাত। প্রতারক কোম্পানির খপ্পরে পড়ে সব হারিয়ে পাগলপ্রায় এ মানুষজন।
শত শত গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করে ২০০ কোটি ছাড়িয়ে যাবার পর ‘করোনার কারণে কিছুদিন অফিস বন্ধ থাকবে’- এমন নোটিশ টাঙিয়ে সটকে পড়ে শাহ সুলতান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির মূলহোতাসহ অন্যান্য।
টাকা ফেরত পেতে স্থানীয় সমবায় অফিস, জেলা প্রশাসক ও পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয় গ্রাহকরা। তদন্ত সাপেক্ষে তারা আশ্বাস দেয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার।
এরি ধারায় তদন্তে নামে র্যাবও। শনিবার রাতে প্রতিষ্ঠানটি চেয়ারম্যান শাহ আলমসহ পাঁচ জনকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
আরও পড়ুন: একটি ব্যাচের নাপা সিরাপ বাজার থেকে তুলে নেয়ার নির্দেশ
ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা জানান, প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়গুলোতে কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত ও এলাকায় বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত লোকজন। তাঁরা গ্রাহকদের প্রলোভনে ফেলে সংগ্রহ করেন কোটি কোটি টাকা আমানত।
প্রতি মাসে মুনাফা পাওয়ায় অনেক প্রবাসী তাঁদের আয় করা টাকা, অনেকে জমি বিক্রির টাকা, এমনকি অন্যান্য ব্যাংকে রাখা টাকাও উত্তোলন করে বিনিয়োগ করেন এখানে। জেলাজুড়ে অন্তত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার পর গত জানুয়ারি মাস থেকে লাপাত্তা প্রতিষ্ঠানটি।