শিশুখাদ্যের মেয়াদ না থাকায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বন্ধ

মেয়াদ না থাকা শিশুখাদ্য বিক্রি এবং পণ্যের গায়ে আমদানিকারকের স্টিকার না থাকায় গুলশান এক নম্বরের ডিএনসিসি মার্কেটে একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

এ সময় অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া খাদ্যপণ্য আমদানি এবং বিক্রি করার শিশু স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ তো বটেই, ক্রেতা সঙ্গে প্রতারণার সামিল। বন্ধ করে দেয়া ওই প্রতিষ্ঠানটিকে এর আগেও তিনবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছিলো।  

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশান-১ নম্বর এলাকায় ডিএনসিসি মার্কেটে ভোক্তা অধিদপ্তরের পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারের নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয়। এ সময় অভিযান দলকে দেখা মাত্র দ্রুত দোকানের সাটার নামিয়ে পালিয়ে যায় মালিক ও কর্মচারীরা।

এ সময় মাওলা ট্রেডার্স নামের একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানে চলে অভিযান। আগেই তথ্য ছিলো প্রতিষ্ঠানটি আমদানি করা পণ্য সারাদেশে বিক্রি করলেও পণ্যের গায়ে কোনো মোড়ক ব্যবহার করে না। ডানো দুধ, নসিলা, বিদেশি চকলেট আর কফিসহ নানা রকম পণ্যে বসানো হতো মনগড়া মেয়াদ। পণ্যের দাম নিয়েও চলতো প্রতারণা। 

পণ্যগুলো আমদানির কাগজপত্রেও নানারকম অসংগতি পায় ভোক্তা অধিকার। অভিযানে মেলে বেশ কিছু মেয়াদ না থাকা খাদ্যপণ্য। তবে প্রতিষ্ঠানটির মালিকের দাবি তারা পণ্যের মোড়কজাত করেই বাজারে ছাড়তো। 


মাওলা ট্রেডার্সের কর্ণধার আনোয়ার হোসেন বলেন, এখানে আমাদের নিজস্ব বেশ কিছু ব্র্যান্ডও রয়েছে। সেখানে এমআরপি, বিএসটিআইয়ের লোগোসহ সবকিছুই রয়েছে। কিন্তু যেসব পণ্য আরও সবাই আমদানি করে, সেগুলোতে আমাদের স্টিকার লাগালে বাজারে ছাড়তে পারব না।

তবে ভোক্তা অধিদপ্তরের পরিচালক জানান, যে ডানো গুড়াদুধ তারা আমদানি করে, সেখানে বিএসটিআই অনুমোদিত আমদানিকারকের কোনো স্টিকার নেই। এতে ভোক্তা অধিকার আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে, পাশাপাশি এটা মোড়কজাত পণ্যের বিধিমালার পরিপন্থি।

তিনি বলেন, তাদের গোডাউনে গিয়েও আমরা মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া কিছু খাদ্যদ্রব্য পেয়েছি। ভোক্তা অধিকার আইন ভঙ্গ করায় প্রতিষ্ঠানটিকে আমরা কয়েকটি ধারায় তিন লাখ টাকা জরিমানা করেছি এবং সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করছি।

আরও পড়ুন: যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী, সড়কেই কেটে যায় পুরো দিন

রমজানের আগে শিশুখাদ্য থেকে শুরু করে সব রকম খাদ্য পণ্য নিয়ে কোনো প্রতারণা করা হলে দোকান বন্ধের পাশাপাশি নিয়মিত মামলা হবে বলে জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর।

গুড়াদুধের বাজারের অস্থিতিশীলতা দূর করার লক্ষ্যে রাজধানীর চকবাজার, মৌলভীবাজারেও অভিযান চালানো হবে বলে জানান ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক।