নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন ঘোড়ায় পরিণত হবার কারণে, টিসিবির ট্রাকে কিছু পণ্য বিক্রির কর্মসূচিতে সাধুবাদ জানালেন পণ্যের মান নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন নগরীর ক্রেতারা।
তাদের অভিযোগ, নিম্নমানের পেঁয়াজ ক্রেতাদের গছিয়ে দেয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে ট্রাকের সংখ্যা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। বলছেন, অনেকে লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য পাচ্ছে না।
সরেজমিনেও দেখা গেছে, প্রতিদিনই বড় হচ্ছে টিসিবি ট্রাকের সামনে মানুষের লাইন। আর এসব লাইনে এখন নিয়মিত সামিল হচ্ছে রাজধানীর মধ্যবিত্তরা।
তারা বলছেন, এখানে পণ্য কিনে কমপক্ষে তিন থেকে চারশ’ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। দুর্মূল্যের বাজারে যাকে আশীর্বাদ হিসাবে দেখছেন তারা।
বুধবার সরেজমিনে নগরীতে পণ্য বিক্রির পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে দেখা গেলো, মোহাম্মদপুরের বাবর রোডে টিসিবির ট্রাকের সামনে লাইনে দাঁড়িয়েছেন কয়েকশ মানুষ।
তবে পণ্য পাবেন মাত্র দুশ’ মানুষ। তাই লাইনের শেষ মাথায় থাকা ক্রেতারা আছেন শঙ্কায়। আজ না পেলে কাল আবারও তারা এই লাইনে দাঁড়াবেন বলে জানালেন।
সম্প্রতি টিসিবির ট্রাকগুলোর সাথে যুক্ত হয়েছে স্থানীয় কাউন্সিলররা। তাদের কাছ থেকে টোকেন নিয়ে কিনতে হচ্ছে পণ্য।
ক্রেতারাই অভিযোগ করছেন, টোকেন দেয়ার ক্ষেত্রে নিজেদের লোকজনের প্রাধান্য দিচ্ছেন সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলররা। যদিও এসব অভিযোগ আমলে নিতে নারাজ কাউন্সিলরা।
রমজান সামনে রেখে টিসিবির পণ্যের তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে ছোলা ও খেজুর। এছাড়াও ডাল চিনি তেল ও পেয়াজের একটি প্যাকেজ মিলছে ৭৯০ টাকায়।
তবে ক্রেতাদের অভিযোগ প্যাকেজের আওতায় তাদেরকে নষ্ট ও খাবার অনুপযোগী পেঁয়াজ নিতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতারা। সেই পেয়াজ ট্রাকের পাশেই ফেলে গেছেন অনেক ক্রেতা।
তারা জানান, সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্য কিনে খুব বেশি লাভবান হতে পারছেন না ক্রেতারা। কেননা মূলত তেল কেনার জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করলেও শুধুমাত্র তেল কেনার সুযোগ নেই।
কারণ, একজন ক্রেতাকে মাথাপিছু দুই কেজি করে তেল, চিনি বা ডাল কেনার জন্য এর দ্বিগুণ অর্থাৎ চার কেজি করে পেঁয়াজ ও ছোলা কিনতে বাধ্য করছেন ডিলাররা।
এর মধ্যে অর্ধেক পেঁয়াজই পঁচা বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। ফলে সেসব পেঁয়াজ বাধ্য হয়ে ট্রাকের পাশেই ফেলে দিতে হচ্ছে।
টিসিবির ডিলাররা এই ‘প্যাকেজ’ ছাড়া পণ্য বিক্রি করছে না। প্যাকেজে রয়েছে ৪ কেজি পেঁয়াজ, ৪ কেজি ছোলা, ২ লিটার সয়াবিন তেল, ২ কেজি চিনি এবং ২ কেজি মসুর ডাল।
কেন প্যাকেজে পণ্য বিক্রি, এমন প্রশ্নের জবাবে ডিলাররা জানান, পেঁয়াজ ও ছোলার বাড়তি বরাদ্দের কারণে বিপাকে পড়েছেন তারা। সেজন্য বাধ্য হয়ে প্যাকেজে পণ্য বিক্রি করছেন।
এবার ঘটনাস্থল মিরপুর-১ নম্বর। টিসিবির পন্যবাহি ট্রাক ঘিরে এখানেও লম্বা লাইন। যারা কখনও টিসিবি থেকে পণ্য কিনতেন না, এমন মানুষও দাঁড়িয়েছেন লাইনে।
তারা জানালেন, যেভাবে পণ্যের দাম বাড়ছে, সেভাবে আয় বাড়েনি। তাই সাশ্রয়ের আশায় তারা লাইনে এসে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। যেটুকু পাওয়া যায়, তাতেই লাভ।
টিসিবির পণ্য কেনার এই ভিড়ে সিন্ডিকেটের অভিযোগও আছে। যারা টিসিবির পণ্য কিনে খোলা বাজারে বিক্রি করছে। এনিয়ে সরেজমিনের প্রতিবেদনও করেছে একাত্তর।