তিতাস গ্যাসের চুরি ঠেকাতে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহায়তা নেয়ার সুপারিশ করেছে ভোক্তাদের সংগঠন ক্যাব।
আর তিতাস বলছে, অবৈধ লাইন কাটার পরই অসাধু চক্র আবারও লাইন নিয়ে নিচ্ছে। গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানিতে এসব বক্তব্য উঠে আসে।
বুধবার (২৩ মার্চ) রাজধানীর বিয়াম অডিটোরিয়ামে তিতাসের প্রস্তাবিত গ্যাসের দামের ওপর গণশুনানি করছে বিইআরসি।
দেশের সবচে বড় গ্যাস বিতরণ কোম্পানি তিতাস। কিন্তু তাদের বিতরণ করা গ্যাসের একটা বড় অংশই অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে চুরি হয়।
এতে এক শ্রেণীর মানুষ উপকৃত হলেও ক্ষতিগ্রন্থ হয় সাধারণ গ্রাহক। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে অভিযান চললেও কদিন পরেই সেই সংযোগ চালু হয়।
তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুনুর রশীদ মোল্লাহ এটিকে ইদুর বিড়াল খেলার সাথে তুলনা করে বলেন, লাখ লাখ অবৈধ সংযোগের কারণে গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিতাসের একার পক্ষে সব লাইন পাহারা দেয়া সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
আক্ষেপের সঙ্গে তিনি বলেন, সকালে লাইন বিচ্ছিন্ন করলে, রাতের অন্ধকারে আবারও লাইন চালু হয়ে যায়।
তিতাসের বক্তব্যের সূত্র ধরে, ভোক্তাদের সংগঠন ক্যাবের জ্বলানি উপদেষ্টা অ্যধাপক শামসুল ইসলাম বলেন, গ্যাস চুরি ঠেকাতে তিতাসের উচিত রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা নেয়া।
তিতাস অন্যান্য বিতরণ কোম্পানির মতোই গ্যাসের দাম ১১৭ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। পাশাপাশি বিতরণ চার্জ ২৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬৮ পয়সা করার আবেদন করেছে।
তবে, বিইআরসি’র কারিগরি কমিটি বিদ্যমান বিতরণ চার্জ বাতিলের সুপারিশ করেছে। কারিগরী কমিটি তিতাস গ্যাসের দাম ২০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে।
তিতাসও এক চুলার গ্যাসের জন্য ২০০০ টাকা এবং দুই চুলার জন্য ২১০০ টাকা দর প্রস্তাব করেছে। তবে কারিগরি কমিটি এক চুলা ৯৯০ ও দুই চুলায় ১০৮০ টাকা দর প্রস্তাব করেছে।
শুনানির শুরুতে বিইআরসি চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে মধ্যম আয়ের লোকেরাও হিমশিম খাচ্ছে। যে পণ্যের বিষয়ে শুনানি হচ্ছে, তার চেইন ইফেক্ট রয়েছে, কোনও প্রস্তাবকারী সেটি তুলে ধরেনি। সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।
একাত্তর/এআর