দুই দফা কারখানা পরিদর্শনের পর টিকে গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল ও বসুন্ধরা গ্রুপের কিছু অনিয়মের ব্যাখ্যা চেয়ে, বুধবার এই চার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের ডেকে পাঠিয়েছিলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
চার কোম্পানির প্রতিনিধিরা জানান, তেল সরবরাহ কম করার বিষয়টি সঠিক মূল্যায়ন নয়। এ সময় এস ও (সাপ্লাই অর্ডার) অনুযায়ী তেল না নিলে ১৫ দিনের মধ্যে তা বাতিল করার আইন অনুসরণ বিষয়েও জানতে চায় ভোক্তা অধিদপ্তর।
ভোজ্যতেলের বাজার স্বাভাবিক করতে মার্চে দুই দফায় দেশের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর কারখানায় তদারকি করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। তারই ধারাবাহিকতায় ফেব্রুয়ারির চেয়ে মার্চে বাজারে কম তেল সরবরাহের কারণ জানতে চার কোম্পানিকে তলব করে প্রতিষ্ঠানটি।
এছাড়া জানতে চাওয়া হয়, পাইকারি বিক্রেতারা এসও অনুযায়ী তেল না নিলে ১৫ দিনের মধ্যে তা বাতিল করার আইন থাকলেও তা কেন অনুসরণ করা হয়নি। একই সঙ্গে ভ্যাট তুলে নেওয়ার পর কি পরিমাণ তেল আমদানি করা হয়েছে সে তথ্যও জানতে চায় অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, সম্প্রতি আমরা বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য কোম্পানিগুলোর কারখানা দেখতে যাই। তাতে বেশ কিছু অনিয়ম ও অসামঞ্জস্যতা ধরা পড়ে। এ পরিদর্শনে দেখা গেছে, কোম্পানিগুলো ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় মার্চ মাসে বাজারে কম তেল সরবরাহ করছে।
তিনি আরও বলেন, এছাড়াও আমরা বেশ কিছু অনিয়ম দেখেছি। আমরা কিছু গোপন তথ্যও পেয়েছি। তাই শুদ্ধতার জন্য এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে শুনানিতে ডেকেছিলাম। বৈঠকে যেসব তথ্য দিয়েছে তা আমাদেরকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। এ জন্যই আমরা তাদেরকে আগামী বুধবার অধিকতর শুনানির জন্য ডেকেছি।
শাহরিয়ার বলেন, গত রোজার তিন মাস আগে প্রত্যেকটা মিল কতটা প্রোডাকশনে ছিল, এবারের রোজার তিন মাস আগে কতটুকু ছিল, এসব তথ্য আগামী বুধবারের বৈঠকে দিতে বলা হয়েছে। আমরা চাই তারা এসবের স্বচ্ছ তথ্য আমাদের দেবে।
ভোক্তার পরিচালক আরও বলেন, ভোজ্যতেলের মূল্য কারসাজি শুধু মিল মালিকরাই নয়, মৌলভীবাজার ও খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরাও করতে পারে। তাই এই দুই বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীদের তালিকাও চাওয়া হয়েছে। আমরা দেখেছি মৌলভীবাজারে হঠাৎ করে একটা মূল্য নিয়ে কারসাজি করা হয়, আবার তারা মিলের দোহাই দিয়ে বলেন, মিল থেকে দিচ্ছে না। তাই এবার আমরা দুপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করব।
প্রথম দফায় পাওয়া অনিয়ম দ্বিতীয় দফায় পরিদর্শনে গিয়ে আর পাওয়া যায়নি। তাই তেল সরবরাহ কম করার বিষয়টি সঠিক মূল্যায়ন নয়, বলছেন কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা।
বাংলাদেশ এডিবল অয়েলের হেড অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস মোহাম্মদ দবিরুল ইসলাম বৈঠক থেকে বের হয়ে বলেন, আমরা সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি। আমরা মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টন ভোজ্যতেল সরবরাহ করি। এটা বাজারের চাহিদার খুব ছোট অংশ।
টি কে গ্রপের পরিচালক শফিউল আতহার তাসলিম বলেন, খুচরা ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী মিলগেটে তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে যে অভিযোগ করা হয়েছিল তা ঠিক করা হয়েছে।
বৈঠকে কোম্পনিগুলো থেকে পাইকারি বিক্রেতাদের নাম নেয়া হয়েছে। এই তালিকা জেলা প্রশাসকদের পাঠিয়ে তারা মজুদ করছেন কিনা তা মনিটরিং করা হবে বলে জানিয়েছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক।