সুনামগঞ্জের হাওরে বাঁধ ভেঙে ফসলের ক্ষতির ঘটনায় তদন্ত
কমিটি গঠন করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এই তদন্তে কারও গাফলতি পেলে ব্যবস্থা নেয়ার
কথাও জানানো হয়েছে।
সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এবং উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম এসব কথা জানান।
তারা জানান, উজানে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট আগাম বন্যায় এবার সুনামগঞ্জের হাওরে প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এজন্য কৃষি ঋণ মওকুফের কথা ভাবা হচ্ছে।
প্রতি বছর সুনামগঞ্জের হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে কৃষকের কষ্টের সোনার ধান নষ্ট হাওয়াটাই যেন নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে তাদের জীবনও ভেঙ্গে যায়।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে এবার দুই লাখ ২৩ হাজার হেক্টরের মধ্যে পাঁচ হাজার হেক্টর জমির ধান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
হাওর ঘুরে এসে নিজ মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সেখান কার পরিস্থিতি তুলে ধরেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সিনিয়র সচিব।
জাহিদ ফারুক বলেন, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে নগদ সহায়তা দেয়া হয়েছে। কৃষি ঋণ যদি কারো থাকে, সেটা যেন মওকুফ হয়, সেটা সরকার ভাবছে এবং এভাবেই এগোচ্ছে।
তিনি বলেন, নদীর পাড়ে যে পলিমাটিগুলো নরম থাকে, যখন পানি নামতে পারে না তখন বাঁধগুলো নরম হয়ে যায় এবং প্রাকৃতিক কারণে নদী ভাঙন হয়ে যায়।
তিনি বলেন, কৃষিমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে হাওরে যাবো এবং কত পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সেটা জানতে পারবো। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা সক্রিয় আছি। আমরা চাই না ফসলের হানি হোক।
মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে কমিটি।
সুনামগঞ্জ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন জানিয়ে উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম বলেন, ৫৩৫ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে তিন জায়গায় যথাক্রমে ৫০, ৫০ ও ৩০ মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
একটা জায়গায় বন্ধ করতে পেরেছিলাম এবং আরেকটা জায়গায় পানির গভীরতা ৫০-৬০ মিটার। আরেকটা মেরামতের কাজ চলছে।
হাওর আন্দোলনের নেতাদের সাথে বৈঠক করেছি, তাদের পরামর্শ মাথায় রেখে কাজ করছি। ১৩ বছর আগে ভাঙন ছিল সাড়ে নয় হাজার হেক্টর, এখন সেটা সাড়ে তিন হাজার হেক্টরে এসেছে।
গত ১-৬ এপ্রিল পর্যন্ত ভারতে রেকর্ড পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, একদিনে ১৩০ মিলিমিটার এবং মোট ১২শ’ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। হঠাৎ বৃষ্টিতেই এই ক্ষতি।
সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার বলেন, ১৮-১৯ সালে স্টাডি করে দেখেছি কোন জায়গা দিয়ে পানি গড়ায়। যেখানে প্রতিবছর কাটা হয় এবং ভরাট করা হয় সেখানে।
সেখানে জিও ব্যাগ ব্যবহার করা হবে। সেখানে নৌ চলাচল হবে। যখন খোলার প্রয়োজন হবে তখন খুলে দেব আর যখন বন্ধ করা দরকার তখন বন্ধ করে দেব।
একাত্তর/আরবিএস