নতুন কাপড়ের অর্ডার নিয়ে দেয়া হতো বস্তাপচা সব পণ্য

ফেসবুকে পেজ খুলে চটকদার বিজ্ঞাপন নিয়ে ক্রেতা আকর্ষণ করার পর তাদেরকে পুরনো শাড়ি ও থ্রিপিস ডেলিভারি করছিলো একটি চক্র। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না তাদের। 

ধরা পড়তে হয়েছে গোয়েন্দাদের জালে। অনলাইন ব্যবসার নামে প্রতারণার অভিযোগে সেই চক্রের দলনেতাসহ পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

রোববার (১৭ এপ্রিল), রাজধানীর হাজারীবাগ থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিম।

গ্র্রেপ্তার হলো- বাপ্পি হাসান (২৪), আরিফুল ওরফে হারিসুল (১৯), সোহাগ হোসেন (২২), বিপ্লব শেখ (২৫) ও নুর মোহাম্মদ (২৮)।

পরের দিন সোমবার সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান ডিবির লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার রাজীব আল মাসুদ।

তিনি বলেন, প্রতারক চক্রটি রাজধানীর হাজারীবাগ, শংকর ও ধানমন্ডি এলাকায় ফেসবুকে পেজ খুলে পণ্যের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা করছিলো। 

তিনি জানান, ভালো মানের পণ্যের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহকের চাহিদা মোতাবেক অর্ডার নিয়ে নিম্নমানের ব্যবহারের অযোগ্য ও নষ্ট পণ্য সরবরাহ করে আসছিল প্রতারক চক্রটি।

তাদের কাছে থাকা একটি ল্যাপটপের মাধ্যমে ২১টি ওয়েব পেজের মাধ্যমে ভালো মানের শাড়ি, লেহেঙ্গা, থ্রিপিস ও বিভিন্ন মূল্যবান পণ্য-সামগ্রীর অর্ডার নিতো। 

পরে ব্যবহারের অযোগ্য ও অতি নিম্ন মানের পুরাতন ছেড়া শাড়ি, লেহেঙ্গা, থ্রিপিসসহ বিভিন্ন পণ্য-সামগ্রী একটি কুরিয়ারের মাধ্যমে ডেলিভারি করে আসছিলো। 

তারা একটি পেজ কিছুদিন ব্যবহার করার পর গ্রাহকদের প্রতারিত করার পর বিভিন্ন বাজে সব কমেন্ট আসতে শুরু করলে পরে আবারও নতুন পেজ খুলে একই প্রতারণা করতো। 

আরও পড়ুন: ঈদকে সামনে রেখে মাঝিরঘাটে আরো একটি ফেরিঘাট

প্রতারণা করে চক্রটি নিম্নমানের পণ্য দিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা আয় করতো। ৫-৬ বছর ধরে তারা এ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত।

এসএ পরিবহনের বুকিংম্যান ও লেবারদের মাধ্যমে প্রতিটি বুকিংয়ে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বুকিং করতো বলেও জানিয়েছে প্রতারক চক্রের সদস্যরা।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ব্যবহার অযোগ্য ও অতি নিম্নমানের পুরাতন ও ছেঁড়া শাড়ি, লেহেঙ্গা, থ্রি-পিসসহ বিভিন্ন পণ্য উদ্ধার করা হয়।