এবার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজড করার সবচেয়ে সম্ভবনাময় প্রকল্প নিয়েই উঠলো অনিয়মের অভিযোগ।
বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো, ব্যানবেইসের একটি প্রকল্পে সরকারের সুষ্পষ্ট নির্দেশনা এড়িয়ে নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দিয়ে টেন্ডার দেয়া হয়েছে।
পাঁচ-দশ বা ১৫ নয়, ২৩ বছরের পুরোনো ডজ বেইস সফটওয়্যার দিয়ে চলছে দেশের শিক্ষা বোর্ড। প্রাচীন এই মাধ্যম দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজড করা কঠিন কাজ।
পরিবর্তনের জন্যই শিক্ষা মন্ত্রণালয় হাতে নেয় যুগোপযোগী এক উদ্যোগ ‘ইন্টিগ্রেটেড এডুকেশন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম- আই.ই.আই.এম.এস’।
এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে শিক্ষার্থীদের ভর্তি, নিবন্ধন, পরীক্ষার ফলাফলসহ সব তথ্য সরকারের নিরাপদ তথ্যভান্ডারে সুরক্ষিত থাকবে।
ওয়েবসাইট বলছে, এই প্রকল্পের মেয়াদ জুলাই ২০১৮ থেকে জুন ২০২২ পর্যন্ত। এখন মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৩ পর্যন্ত করার পরিকল্পনা আছে।
তবে অভিযোগ উঠেছে এই প্রকল্পের জন্য যে টেন্ডার, সেটি কোনোভাবেই সার্বজনীন নয়। বিশেষ করে নেটওয়ার্কিং পণ্য রাউটার, সুইচ, ফায়ারওয়াল এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সামগ্রী ক্রয় করার সুযোগ দেয়া হয়েছে শুধু একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড এবং তাদের নির্দিষ্ট মডেলের পণ্যকে।
একপেশে এই টেন্ডার নথিতে সেই কোম্পানি বাদে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পে অংশ নিতে পারেনি। তাই এতে করে অবাধ প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা কমে আসছে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করে বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান।
অথচ সরকারের পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা বলছে, দরপত্রে কোনো পণ্যের ট্রেড মার্ক, পেটেন্ট, নকশা বা ধরণ, উৎস এমনকি দেশের নাম উল্লেখ করা যাবে না।
সরকারের আইন লঙ্ঘন করে এই দরপত্র এখন গোটা প্রকল্পকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। তবে এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন প্রকল্প পরিচালক মোঃ শামছুল আলম।
তিনি দাবী করেন এখানে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। দরপত্র সংশোধন নয়, বরং অভিযোগ থাকলে সেগুলোর আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে হবে বলছেন প্রকল্প পরিচালক।
সনামধন্য আন্তজার্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে নেটওয়ার্কিং, কম্পিউটিং এবং স্টোরেজ ডিজাইনের স্ট্যান্ডার্ড ডিজাইন অনুসরণ করলে কমপক্ষে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ অর্থ সাশ্রয় হবে।