পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, দেশের শিক্ষাখাতে বাজেট বাড়াতে হবে। কারণ প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষা খাতে বাজেট কম। এজন্য এ খাতে আমাদের সবচেয়ে বেশি ব্যয় করা উচিত।
শনিবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর একটি অভিজাত কনভেনশন সেন্টারে ‘শিক্ষার বাজেট, বাজেটের শিক্ষা: শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, কোথায় আছি আমরা?’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের বড়ো সমস্যা হচ্ছে বাস্তবায়ন। আমরা অনেক কিছুই ভাবি, কিন্তু বাস্তবায়ন হয় কম। তবে শিক্ষা নিয়ে আমি বলব এ খাতে বাজেট অবশ্যই বাড়ানো উচিত। আমি এটা নিয়ে বারবার কথা বলি সংসদে। সামনে আরও বেশি করে বলব যেন শিক্ষায় বাজেট বাড়ানো হয়।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্যাম্পেইন ফর এডুকেশনের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী। সেমিনারে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শিক্ষাবঞ্চিত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে সেগুলো বাস্তবায়নের দাবি জানান।
এদিকে করোনায় শিক্ষার ক্ষতি কাটাতে আসন্ন বাজেটে শিক্ষাখাতে বাজেট বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই সঙ্গে বাজেটের সদ্ব্যবহারের আহবানও জানান শিক্ষবিদরা।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, গত দুই বছর করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যায়নি। অনেক মেয়েদেরই এসময়ে বিয়ে হয়ে গেছে। কোভিড-১৯ শিক্ষা খাতে অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমাদের ক্ষতি কাটাতে এ উদ্যোগ অনেক কাজে দেবে।
সিপিডি রিসার্চ ফেলো মুনতাসির কামাল বলেন, শিক্ষা সব জায়গায় একটা প্রায়োরিটি সেক্টর হিসেবে রাখা হয়েছে। তবে বাজেটের খরচের দিকে তাকালে দেখা যায় তা সাংঘর্ষিক। বাজেট যদি বাড়ানো না হয় তাহলে শিক্ষায় উন্নয়ন হবে কীভাবে। আমরা গত বছরগুলো থেকে যদি দেখি তাহলে দিনদিন শিক্ষায় বাজেট বাড়ার চেয়ে কমছে।
পিকেএসএফ চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমদ বলেন, শিক্ষাআইন প্রণয়ন ছাড়া শিক্ষানীতি অনেক কিছুই বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।
ইউনিসেফ বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ বীরা মেন্ডোরা বলেন, বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত আধুনিক রাষ্ট্র। তবে এ দেশের শিক্ষার মান ও ব্যবস্থা উন্নত বিশ্ব থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। এখনো এ দেশের গ্রামীণ পর্যায়ে শিক্ষার মান এতটা উন্নত নয়। এর ফলে দেশে অনেক মেধাবী থাকা সত্ত্বেও তারা সেভাবে তৈরি হতে পারছে না। তাই শিক্ষায় বাজেট বাড়িয়ে তাদের সব সুযোগ সুবিধা দেওয়া গেলে একটি সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়া সম্ভব।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, এডুকেশন পলিসি ২০১০ ফরমুলেশন কমিটির সদস্য প্রিন্সিপাল কাজি ফারুক আহমেদ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেলিগেশন হান্স লেমব্রেছট, ব্রিটিশ হাইকমিশনের ইনচার্জ এইচ ই জাবেদ প্যাটেল, কমিটি অন গভর্নমেন্ট অ্যাসুরেন্স বাংলাদেশ সংসদের সদস্য এরোমা দত্তসহ আরও অনেকে।
একাত্তর/এসি