দিনের পর দিন গ্যাস না থাকায় কামরাঙ্গীরচরে ভোগান্তি চরমে

চরম দুর্ভোগে দিন পার করছে রাজধানীর কামরাঙ্গীচরের বৈধ আর অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীরা। গেলো আট দিন ধরে সেই এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে রেখেছে তিতাস কর্তৃপক্ষ।

গত ১০ মে থেকে তিতাস গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড ওই এলাকার গ্যাস সংযোগ বন্ধ রেখেছে। তাদের অভিযোগ, গ্যাসের বকেয়া বিল আদায় ও অসংখ্য অবৈধ সংযোগ বন্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। 

এনিয়ে কোন সমঝোতা না হওয়ায় কামরাঙ্গীচরে আট দিন ধরে গ্যাস ছাড়াই বসবাস করছেন লাখো বাসিন্দা। গ্যাস না থাকার ভোগান্তি এখন চরমে পৌঁছেছে। 

এলাকাবাসী বলছে, গ্যাস না থাকায় রান্নার কাজ করা যাচ্ছে না। লাকড়ি ব্যবহারের কারণে রান্নার খরচও বেড়েছে তাদের। আর এই সুযোগে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কেরোসিনের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

আবার বৈধ সংযোগের গ্রাহকরা দাবি করেছেন, তারা নিয়মিত বিল পরিশোধ করে আসলেও তাদের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ কোন ধরনের বিচার বলে কৈফিয়তও চেয়েছেন তারা। 

গ্যাস না থাকায় নারী ও শিশুরা চরম বিপাকে পড়েছে। পরিবারের পুরুষ সদস্যরা হোটেল-দোকানে গিয়ে খাবার খেলেও বাড়িতে নারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তারা নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করছে।

ঝাউলাহাটির এক বাসিন্দা বলেন, আট দিন ধরে গ্যাস নেই। খাওয়া-দাওয়ার সমস্যা বলে বোঝানো যাবে না। সকালে রুটি, দুপুরে পাউরুটি কিংবা মাঝে মাঝে অন্য কিছু খেয়ে দিন কাটছে। 

ক্ষোভ জানিয়ে তিনি বলেন, গত মাসেও টাকা (গ্যাস বিল) দিয়ে আসলাম। অথচ এখন গ্যাস নেই। কবে গ্যাস পাবো, সেটারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।

কামরাঙ্গীরচরের ঝাউচরের এক নারী বলেন, লাকড়ি দিয়ে পরিবারের আট সদস্যের প্রতিদিন দুই বেলা রান্না করা খুব কষ্টকর। আবার বাজারে লাকড়িও পাওয়া যাচ্ছে না।

অপর এক নারী জানান ইটের চুলায় লাকড়ি দিয়ে রান্না করছেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন লাকড়ি দিয়ে রান্না করতে হচ্ছে। এসব লাকড়ি শুকনো না, অনেকগুলোই বৃষ্টির মধ্যে ভিজে গেছে।

তিতাস সূত্রে জানান গেছে, কামরাঙ্গীচর এলাকায় ১২ হাজার বৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ সংযোগ রয়েছে প্রায় ৩৬ হাজার। 

আরও পড়ুন: আতশবাজি বানানোর চেষ্টা, কিশোরের কবজি বিচ্ছিন্ন

অবৈধ সংযোগের কারণে বৈধ সংযোগ ব্যবহারকারীরা পর্যাপ্ত গ্যাসের সরবরাহ পেতেন না। বারবার বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য বলা হলেও এলাকাবাসী তা আমলে নেয়নি।  

সেখানে ১২ হাজার গ্রাহকদের কাছে প্রায় ৬৮ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বসে এই সমস্যার একটা সমাধানের পথ বের করা হবে। তিতাস গ্যাস এ বিষয়ে কাজ করছে।


একাত্তর/এসি