লাগাতার শিডিউল বিপর্যয়, চরম দুর্ভোগে ট্রেনের যাত্রীরা

মাত্র দুইমাস আগে রোজার ঈদে ট্রেনযাত্রা স্বস্তিদায়ক হলেও এবার কোরবানির ইদ অনেকটাই দুর্ভোগের মুখে পড়েছে ঘরমুখো যাত্রীরা। ঈদ যাত্রার প্রথম দিন থেকেই ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় শেষ দিন পর্যন্ত ঠেকেছে। সময়মত ট্রেন স্টেশনে না পৌঁছানোয় রাতের ট্রেন ছাড়তে হয়েছে সকালে। ফলে চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন সুত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৮ জুলাই) থেকে প্রায় সবগুলো ট্রেন দেরিতে এসেছে আবার ছেড়ে গেছে দেরিতে।

জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সারারাতেও স্টেশনে আসেনি এই ট্রেন। রাত ৮টায় ছাড়ার কথা দ্রুতযান এক্সপ্রেসের। সেটাও স্টেশনে রাতে ফেরেনি। 

শিডিউল বিপর্যয় ও যাত্রীর চাহিদা বেশি থাকায় দ্রুতযান এক্সপ্রেসের শনিবার (৯ জুলাই) রাত ৮টা ও পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের ট্রেনের যাত্রা বাতিলের ঘোষণা দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে সে ঘোষণা থেকে সরে আসে কর্তৃপক্ষ।

বেলা ১১টায় সাংবাদিকদের উদ্দেশে ব্রিফিং শুরু করেন কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার।ব্রিফিংয়ের এক পর্যায়ে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, ঈদযাত্রায় বাড়িমুখী মানুষের চাপ বেশি। এই জনস্রোত ঠেকানো কঠিন। তাই শিডিউল বিপর্যয় ও মানুষের চাপকে সামনে রেখে দুটি ট্রেনের যাত্রা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

কিন্তু আধঘণ্টা না পেরোতেই একটি ফোনকলে বদলে গেল সিদ্ধান্ত। বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটের দিকে তিনি সাংবাদিকদের জানান, কোনো ট্রেনের যাত্রা বাতিল হচ্ছে না।

আরও জানা গেছে, প্রতিটা ট্রেন ১ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত দেরি করে ছেড়েছে। ফলে সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের যাত্রীরা। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ট্রেন স্টেশনে না আসায় সকালে দ্রুতযান এক্সপ্রেসে উঠতে গিয়ে অনেকের পক্ষে তা সম্ভব হয়নি।

এ প্রসঙ্গে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মো. মাসুদ সারওয়ার জানান, গতকাল যাত্রা পথে কয়েকটি ট্রেনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়া কিছু সিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। তবে এখন সে সমস্যা কেটে যাচ্ছে।

তবে ময়মনসিংহগামী বলাকা এক্সপ্রেস, জামালপুর কমিউটার, চট্টগ্রামগামী ট্রেন সোনার বাংলা, তিস্তা এক্সপ্রেস, এগারোসিন্ধুসহ পশ্চিমাঞ্চলের অনেক ট্রেন ৩০ থেকে ৪০ মিনিট দেরি করে স্টেশন থেকে ছেড়ে গেছে।

শনিবার (৯ জুলাই) ঈদ যাত্রার শেষ দিন। এদিন কমলাপুর স্টেশনে ছিল ঘরমুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্টেশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আজ (শনিবার) স্টেশনে যাত্রীদের এত চাপ থাকার কথা না। গতকাল শুক্রবার রাতে বেশ কয়েকটি ট্রেন না আসায় হাজার হাজার যাত্রী স্টেশনে রাত কাটিয়েছেন। সকালে যেসকল ট্রেন ছেড়ে গেছে সেগুলোতে প্রচুর ভিড়। স্টেশনে ট্রেন আসা মাত্র যাত্রীরা ওঠার জন্য হুমরি খেয়ে পড়ছেন। কেউ উঠছেন জানালা দিয়ে।

আরও পড়ুন: টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু মহাসড়কে দীর্ঘ জট, ভোগান্তি চরমে

উল্লেখ্য, এবার যাত্রীদের ঘরে ফেরা নির্বিঘ্ন করতে অতিরিক্ত ছয় জোড়া ট্রেন ও এক জোড়া বিশেষ ট্রেন ছাড়াও ভারতের সঙ্গে চলাচলকরা তিনটি ট্রেনের র‌্যাক ঈদে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে।


একাত্তর/এসএ