রাতের ট্রেন দুপুরে আর সকালের ট্রেন ছেড়েছে বিকালে!

রাতের ট্রেন গেছে পরদিন দুপুরে। আর সকালের ট্রেন বিকেলে। স্মরণকালের ভয়াবহ শিডিউল বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হলো রেলে মানুষের ঈদযাত্রা। 

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি ছিলো উত্তরের যাত্রীদের। এই রুটের সব ট্রেনই নির্ধারিত সময়ের পাঁচ থেকে ১২ ঘণ্টা দেরিতে স্টেশন ছেড়েছে। এলোমেলো ছিল সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের সময়সূচীও। 

শনিবার (৯ জুলাই) সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে এই প্রতিবেদকের চোখে পড়ে, সন্তান কোলে এক মায়ের ট্রেনে চড়ার মরিয়া ও ঝুঁকিপূর্ণ চেষ্টা। 

প্রচণ্ড ভিড়ে দম বন্ধ এই পরিস্থিতিতে যেনো কোলের শিশুটির পরিণতি সম্পর্কে ভাবার অবকাশও নেই। অসহায় মায়ের মুখ। অবুঝ শিশুর কান্না।  

যে কোন মূল্যে ট্রেনে একটু ঠাঁই করে নেয়া চাই। শনিবার বেলা পৌনে ১১টায় পঞ্চগড় এক্সপ্রেস কমলাপুরের সাত নম্বর প্ল্যাটফর্মে ভিড়তেই শুরু ঘরমুখো মানুষের এমন মরিয়া চেষ্টা।  


পঞ্চগড় এক্সপ্রেস কমলাপুর ছাড়ার কথা ছিলো শুক্রবার রাত পৌনে ১১টায়। ১২ ঘণ্টা দেরিতে সেই ট্রেন আসে কমলাপুর। রাতভর ট্রেনের অপেক্ষা। তারপর ক্লান্তি নিয়ে ট্রেনে চড়ার যুদ্ধ।   

শুধু পঞ্চগড় এক্সপ্রেসই নয়। উত্তরাঞ্চলের পথে ট্রেনের সময়সূচী বলে আদতে কিছুই ছিলো না। সুন্দরবন, নীলসাগর, রংপুর এক্সপ্রেস- প্রতিটি ট্রেনই চার-পাঁচ ঘণ্টা দেরিতে স্টেশন ছেড়েছে। 

কমলাপুরে হাজারো মানুষের ঈদযাত্রা তখন রীতিমতো দুঃস্বপ্ন। সিলেট ও চট্টগ্রাম রুটের কিছু কিছু ট্রেনের সূচিও ছিলো এলোমেলো।  

কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর রেলস্টেশন। ঘরমুখো মানুষের অপেক্ষা ছিলো সেখানেও। একটা ট্রেন স্টেশনে আসা মাত্র তাতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে সবাই। 

কে টিকেটধারী আর কে বিনা টিকেটের যাত্রী, সেটি যাচাইয়ের কোন সুযোগ নেই। সবারই বাড়ি যাওয়া চাই। আর যাচাই করতে কর্তৃপক্ষের মধ্যে তেমন কোন ইচ্ছাও চোখে পড়েনি। 

প্রচণ্ড যাত্রীচাপের কারণে সময়সূচী ভেঙে পড়ার কথা বলছে রেল কর্তৃপক্ষ। তবে পরিস্থিতি সহনীয় রাখতে কোন চেষ্টা দেখা যায়নি রেল কর্তৃপক্ষের। 

এদিকে, রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন জানিয়েছেন, ঈদের শেষ মুহূর্তে মানুষ ট্রেনে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে শুরু করে ছাদ ও ভেতরে কোথাও ঠাই ধারণের জায়গা ছিল না। 

ক্যাপাসিটির বেশি যাত্রী নেয়ায় ট্রেনের ৫-৬টা বগির স্প্রিং বসে গেছে। অতিরিক্ত যাত্রী হওয়ায় ট্রেন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারেনি। 

যেসব স্টেশনে যাত্রাবিরতী দুই মিনিট সেখানে যাত্রী ওঠা-নামা করতেই ১০ মিনিট পেরিয়ে যাচ্ছে। এভাবেই সিডিউল বিপর্যয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী।