পোশাক ও গৃহশ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতে জাতীয় সংলাপ

ঢাকা শহরের পোশাক এবং গৃহ শ্রমিকদের আর্থ-সামাজিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে টেরে ডেস হোমস (টিডিএইচ) ইটালি, কর্মজীবী নারী এবং সবুজের অভিযান ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহযোগিতায় “একতায় মর্যাদা-ইউনিটি ফর ডিগনিটি” প্রকল্পের আওতায় একটি জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

বুধবার (৩ আগস্ট) এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। 

এই প্রকল্পের ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী সবুজের অভিযান ফাউন্ডেশন, গৃহ শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্ক এবং শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের সাথে যৌথভাবে, টিডিএইচ ইটালি এবং কর্মজীবী নারী-এর সহযোগিতায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের (এমওএলই) সাথে এডভোকেসি করার নিমিত্তে নিম্নলিখিত এডভোকেসি ইস্যুতে এই ন্যাশনাল ডায়লগ এর আয়োজন করা হয়- 

১. বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক আইএলও কনভেনশন-১৮৯ এর অনুস্বাক্ষর

২. কর্মক্ষেত্রে গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি ২০১৫ বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে একটা সুস্পষ্ট গাইডলাইন পাওয়া

আয়োজনটিতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য মো. মুজিবুল হক, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রোগ্রাম অফিসার অ্যালেন মালেটিক, আইএলও বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিসের ন্যাশনাল প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর অ্যানে ড্রং এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ডা. সেলিনা আক্তার। এছাড়াও গৃহ শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্ক, শ্রমিক  নিরাপত্তা ফোরাম এবং ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও মনোনীত আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। 

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ডা. সেলিনা আক্তার তার বক্তব্যে বলেন, 'আপনারা যত বেশি ঐক্যবদ্ধ হবেন, সরকারের কাছে তত বেশি চাপ সৃষ্টি হবে এবং তত বেশি সুযোগ তৈরি হবে। কিন্তু সুশীল সমাজের উচিত একাডেমিক ফলাফল নিয়ে আসা। অনানুষ্ঠানিক কর্মীদের তাদের সমস্যা জানানোর কোনো সুযোগ নেই। সুশীল সমাজের উচিত গৃহকর্ম সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে আসা যাতে সরকার এগিয়ে যেতে পারে।' 

আইএলও প্রতিনিধি অ্যান ড্রং বলেন, 'বাংলাদেশ সরকার আইএলও কনভেনশন ১৩৮ অনুসমর্থন করেছে এবং আইএলও মনে করে যে গৃহশ্রমিকদের জন্য সরকারের ভাল কিছু করার সদিচ্ছা আছে। গৃহ শ্রমিকদের তাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য আমাদের তাদের কথা শুনতে হবে। এর পাশাপাশি আমাদের চিহ্নিত করতে হবে কোন বিষয়গুলো গৃহশ্রমিকদের নিয়োগকর্তাদের উৎসাহিত করছে গৃহ শ্রমিকদের অধিকারগুলো প্রদান করতে।' 

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রোগ্রাম অফিসার অ্যালেন মালেটিক বলেন, গৃহ শ্রমিকদের শোভন কাজের পরিবেশ প্রয়োজন। করোনাকালীন সময়ে তাদের মজুরি কমে গিয়েছিল। আইএলও কনভেনশন ১৮৯ গৃহশ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন অন্যান্য অংশীদারদের সাথে একসাথে গৃহশ্রমিকদের জন্য কাজ করছে। তিনি মনে করেন গৃহ শ্রমিকদের জন্য একটি আইনি কাঠামো প্রয়োজন। 

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য মো. মুজিবুল হক বলেন, যেহেতু বাংলাদেশ সরকার নীতিমালা তৈরি করেছে তাই নীতিগতভাবে তারা একমত। তিনি মনে করেন মন্ত্রণালয়ের প্রধান নির্বাহী একজন শ্রমিক নেতা হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তিনি এ বিষয়ে সংসদে কথা বলতে আগ্রহী। লক্ষ্য অর্জনের জন্য মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে যৌথ সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি পরামর্শ দেন যে আমাদের সচেতনতা বাড়াতে হবে যাতে আমাদের সমাজব্যবস্থা শ্রমের মর্যাদা দিতে ইচ্ছুক হয়।

সংলাপে ডিডব্লিউআরএন-এর ইনচার্জ কোঅর্ডিনেটর আবুল হোসেন 'গৃহশ্রমিক সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি ২০১৫' সংক্ষেপে উপস্থাপন করেন।

আয়োজনটি সঞ্চালনা করেন বিলস্ পরিচালক ও ডিডব্লিউআরএন সদস্য সচিব নাজমা ইয়াসমিন। সভাপতিত্ব করেন সবুজের অভিযান ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী পরিচালক মাহমুদা বেগম।

অংশগ্রহণকারী ও বিশিষ্ট অতিথিদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন টেরে ডেস হোমস্ ইতালিয়া-এর কান্ট্রি প্রধান রাজীব দেবনাথ।


একাত্তর/এসজে