দু'বছর করোনায় সঙ্কুচিত তাজিয়া মিছিল এ বছর বের হয়েছে তিনগুণ উৎসাহ নিয়ে। কারবালা প্রান্তরে ঘটে যাওয়া করুণ ঘটনার স্মরণে, এবার হোসেনি দালান থেকে বের হওয়া তাজিয়া মিছিলে অংশ নেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। এদিকে মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদ থেকেও একটি তাজিয়া মিছিল বের হয়ে শেষ হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কাছে।
হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম মহানবী হজরত মুহাম্মদের দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত হন কারবালার ময়দানে।
ইয়াজিদের সৈন্যরা একে একে নিষ্ঠুরভাবে খুন করে ছোট বড় সবাইকে। এরপর থেকে দিনটিতে শোক পালন করে মুসলমানরা, তাজিয়া মিছিলের মাধ্যমে মাতম করে শিয়া সম্প্রদায়।
গেলো দুই বছর করোনার জন্যে বড় আকারে তাজিয়া মিছিল করা যায়নি। এবার সেই বাধা না থাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষ যোগ দেয় এবারের পবিত্র আশুরার সব আয়োজনে।
সেই দিনের কারবালা ময়দানে শহীদদের স্মরণে মুসলিম শিয়া মতাবলম্বীরা রাজধানীর লালবাগের হোসেনি দালান থেকে তাজিয়া মিছিল বের করে।
কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই এতে অংশ নেন হাজারো মানুষ। মিছিলটি লালবাগ আজিমপুর হয়ে চলে যায় ধানমন্ডি লেকপাড়ের কারবালার ময়দান নামক স্থানে।
ইমাম হোসেনের প্রিয় ঘোড়া দুলদুলের স্মরণে একটি ঘোড়াকে সাজিয়ে দুধ ঢেলে বরণ করে শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। মিছিলে দুটি কালো গম্বুজ বহন করা হয় বিবি ফাতেমাকে স্মরণ করে।
এর আগে পুরান ঢাকার ধর্মপ্রাণ হাজারো মুসলমান মঙ্গলবার সূর্য ওঠার আগেই হোসেনি দালানে হাজির হয়েছেন। শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সী নারী-পুরুষ আসেন সেখানে।
তাঁদের পরনে কালো কাপড়, মাথায় বাঁধা কালো পতাকা। আর তরুণদের হাতে কালো পতাকা। মিছিলের সামনে–পেছনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক উপস্থিতি দেখা গেছে।
হোসনি দালান ছাড়াও মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদ থেকে বের হওয়া মিছিলে ছিল নবীজির দৌহিত্রের স্মরণে কফিন। বুক চাপড়ে মাতম করে নারী-পুরুষ, ছোটবড় সবাই।
বেশ কয়েক বছরের মত এবারও তাজিয়া মিছিলে নিষিদ্ধ ছিলো ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি ও লাঠি বহন। মিছিলের সামনে-পেছনে ছিলো আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা।
১০ মহররমের এই দিনে অনেক ফজিলতময় ঘটনা স্মরণে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল রোজা, নামাজ, জিকির-আসকারের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন।
একাত্তর/এআর