সানজানার মৃত্যুর বিচার চেয়ে সড়কে সহপাঠীরা

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানজানার মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করেছেন তার সহপাঠীরা। 

রোববার সকালে রাজধানীতে সানজানার মৃত্যুর প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তারা এই দাবি জানান। 

রাজধানীর উত্তরায় দক্ষিণখান মোল্লারটেক এলাকায় একটি ১০ তলা ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে শিক্ষার্থী সানজানা আত্মহত্যা করেন। 

এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর লেখা একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে দক্ষিণখান থানা পুলিশ। যেখানে তার মৃত্যুর জন্য বাবাকে দায়ী করে গেছেন।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তম সেমিস্টারে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সানজানা দশ তলা থেকে লাফিয়ে পড়ার পরই উত্তরার একটি হাসপাতালে নেয়া হয় তাকে।

মোল্লারটেকের ওই ভবনে বাবা-মায়ের সাথেই বসবাস করতেন সানজানা। স্থানীয়রা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ১০ তলা ভবনের ছাদ থেকে লাফ দেন ওই শিক্ষার্থী। 

তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে একটি স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিকেল চারটার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি চিরকুটে উদ্ধার করে। সেখানে লেখা আছে, আমার মৃত্যুর জন্য আমার বাবা দায়ী। একটা ঘরে পশুর সাথে থাকা যায়, কিন্তু অমানুষের সাথে না। একজন অত্যাচারী রেপিস্ট, যে কাজের মেয়েকেও ছাড়ে নাই। আমি তার করুণ ভাগ্যের সূচনা।

এদিকে, সানজানার মৃত্যুতে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন নিহতের মা ও ফুপু। মেয়ের মৃত্যুর জন্য বাবাকেই দায়ি করেছেন মা। তবে ফুপুর দাবি, এই মৃত্যুর জন্য সানজানার মা দায়ি।  


সানজানার মৃত্যুর প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধনে অংশ নেয়া এক সহপাঠী বলেন, বাসা থেকে পড়াশোনার জন্য টাকা না দেয়ায় লাস্ট সেমিস্টার সানজানা পড়তে পারেননি

আরেক সহপাঠী বলেন, সানজানা ভালো স্টুডেন্ট ছিল। আঙ্কেল ওকে প্রচুর মারধর করত। গত রমজানে ওকে মেরে তিন দিন বিছানায় ফেলে রাখছিল।

তারা আরও বলেন, বিভিন্ন সময় দেখা যেতো আঙ্কেল আন্টিকে মারতে গেছে, সানজানা প্রতিবাদ করলে তাকেও মারতো। ওর হাত ভেঙে গিয়েছিলো, এ রকম অনেকবার ঘটছে। 

আরও পড়ুন: রাজধানীতে দেড় লাখ টাকার জাল নোটসহ একজন গ্রেপ্তার

নিলয় নামে সানজানার বন্ধু বলেন, ওর বাবা ওকে প্রায়ই মারধর করত। মারধরের কারণে মাঝে মাঝে সে ক্লাসে আসতে পারত না। ওর হাত ও শরীরে মারের দাগ রয়েছে।

সানজানার মা বলেন, ওর বাবা দুটি বিয়ে করেছে। এ নিয়ে আমাদের পরিবারে অশান্তি লেগেই ছিল। এক পর্যায়ে তার বাবার অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে অবশেষে আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।


একাত্তর/এসি