শুল্ক কমিয়ে আমদানি বৃদ্ধি এবং ওএমএস ও ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে টিসিবির পণ্যবিক্রিসহ খাদ্যবান্ধব নানা কর্মসূচির পর অবশেষে কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত কমলো মোটা চালের দাম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হলে, আমদানি বাড়িয়ে ভাঙতে হবে মিলারদের সিন্ডিকেট। তবে, বাজারে সরকারের নজরদারী বাড়ানোর দাবী করছেন ভোক্তারা।
গেল সপ্তাহের ৫২ টাকা কেজির মোটা চাল এখন ৪৭ টাকা। ৫৪ টাকার মাঝারি চাল ৫০ এবং ৭৫ টাকা কেজির চিকন চাল এখন ৭০ টাকা, এমন তথ্য ট্রেডিং করপোরেশনের।
খাদ্যমন্ত্রীও বললেন, সরকারের নেয়া খাদ্যবান্ধব নানা কর্মসূচি’র পর চালের দাম কেজিতে কমে গেছে ৫ থেকে ৬ টাকা।
বাজারে চালের দাম কিছুটা কমতে শুরু করলেও টিসিবি’র তথ্য ও খাদ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পুরোটা মিল পাওয়া গেলো না বাজারে।
রাজধানীতে এখনও মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৩ টাকায়, মাঝারি চাল ৫৬ থেকে ৫৮ টাকায় এবং চিকন চাল বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজিতে।
ক্রেতারা বলছেন, চালের মতো নিত্যখাদ্য পণ্যের বাজারে সরকারের নজরদারী বাড়ানো উচিত। তাহলেই হয়তো কিছুটা স্বস্তি মিলবে তাদের।
তবে স্বস্তির খবর, শিগগিরই মিয়ানমার থেকে ২ লাখ টন চাল দেশে আসবে। ভিয়েতনাম ও ভারত থেকেও আসছে আরও প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টন চাল। এই চাল দেশে এলে দাৃ আরেকটু কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আজ প্রতি কেজি শসার দাম ৮০ টাকা। পটল, ঢেঁড়স ও ঝিঙা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। প্রতি কেজি করলা ৮০ টাকা ও বরবটি ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি আলু ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে শিম, টমেটো ও গাজর। ধুন্দল ৬০ টাকা কেজি দরে এবং লাউ আকারভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি মুলা ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২০ টাকা এবং পেঁপে ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি হালি কাঁচা কলার ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সপ্তাহ ব্যবধানে কমেছে পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের দাম। খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দাম কমে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়।
এ সপ্তাহে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮০ টাকা, কক ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা এবং সোনালি মুরগির দাম ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। এছাড়া গত সপ্তাহে প্রতি ডজন ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও দাম বাড়ায় এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। এছাড়া বাজারে ৭০০ টাকা কেজি গরুর মাংস এবং ৮০০ টাকা কেজি দরে খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে।
সপ্তাহ ব্যবধানে মাছের দাম কিছুটা বেড়ে প্রতি কেজি রুই মাছ ৩২০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ও পাঙাশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়। এ ছাড়া প্রতি কেজি শিং মাছ ৩৫০ থেকে ৪৬০ টাকা এবং কৈ মাছ কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি চিংড়ির দাম পড়ছে ৮০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা। এক কেজির একটি ইলিশের দাম পড়ছে ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা।
একাত্তর/এআর