তীব্র পানি সংকটে আদাবর পিসি কালচারের বাসিন্দারা

গেলো মাস ধরে তীব্র পানি সংকটে ভুগছে রাজধানীর আদাবর এলাকার পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটির বাসিন্দারা। নিয়মিত বিল দিলেও তারা ওয়াসার পানি পাচ্ছেন না। 

তাই বাধ্য হয়ে বেশি টাকায় ওয়াসার গাড়ির পানি কিনতে হচ্ছে। সেই পানিও সকালে চাইলে আসেছে বিকালে। এ অবস্থায় অনেকেই এলাকা ছেড়ে যাচ্ছেন। 

ওয়াসার কাছে বারবার জানিয়েও সঙ্কটের সমাধান হচ্ছে না। তারা বলছে, বৃষ্টির পরিমাণ কমে যাওয়া এবং টানা লোডশেডিংয়ের কারণে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

মোহাম্মদপুরের আদাবর এলাকার পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটিতে বসবাস করা বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, দেড় থেকে দুই বছর আগে এই এলাকায় পানির সংকট দেখা দেয়।

বেশ বড় এই আবাসিক এলাকায় কথা হয় এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে। তিনি জানান, পানির সংকট এতোটাই তীব্র যে, ওজুর পানিও পুনরায় ব্যবহার করতে হচ্ছে। 

তিনি অভিযোগ করেন, এখন দিন যত যাচ্ছে, পানি সংকট তীব্র হচ্ছে। এরমধ্যে গত ৪-৫ দিন ধরে টাকা এবং চাহিদা দিয়েও একেবারেই ওয়াসার গাড়ির পানি পাওয়া যাচ্ছে না। 

খোঁজ নিয়ে দেখা, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটির ৪, ৫ ও ৭ নম্বর রোডে দুইশোর বেশি আবাসিক ভবন রয়েছে। এই ভবনগুলোতেই পানি সংকট সবচেয়ে বেশি।

পাঁচ নম্বর সড়কের এক বাসিন্দা জানালেন, তার রোডের দুই-তৃতীয়াংশ বাড়িতে একেবারেই পানি নেই। গত চার দিন ধরে পানি কিনতে হচ্ছে। 

তিনি জানান, সংকটের কথা ওয়াসার স্থানীয় জোনের নির্বাহী প্রকৌশলীকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ বা স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

পিসি কালচারে এমন পানির সংকটে ভুগছেন বহু মানুষ। বলছেন, বারবার ওয়াসাকে জানিয়েও তারা কোন সমাধান পাচ্ছে না। অথচ মাস শেষে ঠিকই দিতে হচ্ছে ওয়াসার বিল। 

সবচে বেশি বিপদে নিম্ন আয়ের মানুষেরা। তাদের পানি কিনে খাবার সামর্থ্যও নয়। প্রতি চার হাজার লিটার পানির জন্য ওয়াসাকে ৪০০ টাকা করে দিতে হচ্ছে।

ওয়াসার পানি নিয়ে এমন অভিযোগ নতুন নয়। গেল চার মাস ধরে পানির তীব্র সংকটে ভোগার পর এখন তাদের দাবি ময়লা হোক গন্ধ হোক, তবু আসুক ওয়াসার পানি। 

আরও পড়ুন: ঝড় হতে পারে ঢাকাসহ ১০ জেলায়

ওয়াসার স্থানীয় কার্যালয় বলছে, এই এলাকায় গভীর নলকূপের পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। বিদ্যমান পাম্প দিয়ে চাহিদা অনুযায়ী পানি উঠানো যাচ্ছে না। 

এরমধ্যে লোডশেডিংয়ের কারণে এ সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। পানি সরবরাহে ওয়াসাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে ওয়াসা।


একাত্তর/এসজে