সেবা আর মনোবলের জোরে পক্ষাঘাত নিয়ে ৪৫ বছর

সেবা, যত্ন আর মনোবলের কারণে ৪৫ বছর পক্ষাঘাত নিয়ে বেঁচে আছেন শাফিজ আহমেদ। তাঁর বয়স এখন ৮৫ বছর। ১৯৭৭ সালে তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়।

বিছানায় পড়ে থেকে শরীরের ঘায়ে যখন পোকার বসবাস, তখনও হাল ছাড়েননি স্ত্রী খোরশেদা বেগম। তাঁদের যুগল জীবনে এখন দুজন দুজনের ভরসা।

প্রায় পাঁচ দশক হাঁটতে পারেন না শাফিজ আহমেদ। সবশেষ ঘর থেকে বেরিয়ে বাড়ির বাইরে গিয়েছেন ১০ বছর আগে, সেই ২০১২ সালে।

এক ঘর, এক বিছানা। তিন-চারজন মানুষ। আর ঘরের বাতাসে অক্সিজেনের চেয়ে বেশি আছে এক রাশ আত্মবিশ্বাস; যার বলীয়ানে আজো চালিয়ে যাচ্ছেন অসম্ভব এক লড়াই।

যদিও ১৯৭৭ সালের পয়লা জুনের সেই সকালে রাতের অন্ধকার হয়ে এসেছিলো খোরশেদা- শাফিজের জীবনে। খোরশেদার বয়স তখন সবে মাত্র ২৫।

সবশেষ করোনার লকডাউনের সময় পরিচিতরা, শাফিজ আহমেদকে উদাহরণ মেনেছেন। আর শাফিজের জীবন-দর্শন- কোনো আফসোস নেই। তৃপ্তিই জীবনের মূল সূত্র।


স্বাভাবিক দাম্পত্যের কিছুই নেই খিলগাঁওয়ের বাড়িটিতে। তবে, যখন যা সামনে এসেছে, তাই মেনে নিয়েছেন, অচল স্বামীকে টেনে নিয়ে যেতেন অফিসে।

তিনি নিজেও চাকরি নিয়েছিলেন, তার পাশের অফিসেই। এখন নিজেই বিস্ময়ে ফিরে তাকান অতীতের সেই দিনগুলোতে।

বিশ্ব যখন আন্তর্জাতিক পেলিয়িটিভ দিবস পালন করছে, তখনও ওষুধবিহীন জীবনের পথে হাঁটছেন এই পরিবার।

আরও পড়ুন: সম্ভাব্য মন্দা মোকাবেলায় সক্ষম হবে বাংলাদেশ

সেবা-চিকিৎসা বিজ্ঞানে জ্ঞান না থাকার পরেও কেমন করে সব পরীক্ষায় উৎরে গেলেন খোরশেদা-শাফিজ, এমন সব প্রশ্নের উত্তরেই হাসি বোনাস খোরশেদার।

আর সেই হাসির রসায়ন নাকি বই। এই বয়সে পড়ছেন আধ্যাত্ববাদ। লালন খুজছেন, তার অর্থ- যেখানে লালন বলেছেন সময় গেলে সাধন হবে না, যা খোরশেদা বেগমের, প্যালিয়াটিভ কেয়ারময় জীবনের প্রতিপাদ্য- 'ব্যথাপূর্ণ জীবন এবং ব্যথাসহ মৃত্যু: কোনোটিই কাম্য নয়'।


একাত্তর/আরবিএস