রাজধানীতেও চিহ্ন রেখে গেলো ঘূণিঝড় সিত্রাং

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে দিনভর বৃষ্টিতে পানিবন্দি রাজধানীর মানুষ। মোহাম্মদপুর থেকে গাবতলী বেড়িবাঁধ পর্যন্ত নিচু এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

বেশিরভাগ ভবনের নিচতলা, বস্তিঘর, দোকানপাট পানিতে তলিয়ে গেছে। ঘর ছেড়ে আশপাশের বহুতল ভবনে আশ্রয় নেন অনেকেই। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তাদের। 

সহসা এমন বিপর্যয় দেখেনি মোহাম্মদপুরের মানুষ। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে সোমবার ভোর থেকে রাত পর্যন্ত টানা বৃষ্টি। 

আর, সেই বৃষ্টিতে মোহাম্মদপুরের বেঁড়িবাঁধ লাগোয়া পুরো এলাকা পানির নীচে। মঙ্গলবার দুপুরেও মোহাম্মদপুরের সেসব এলাকায় পানি দেখা গেছে। 

সোমবার দিনভর বৃষ্টির পর সন্ধ্যা নাগাদ রামচন্দ্রপুর খাল উপচে মুল সড়ক তলিয়ে যায়। এরপর রাত ৮ থেকে ১০টা দশটা পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিতে কিছু বুঝে উঠার আগেই সব পানির নীচে। 

রাতের অন্ধকারে যে যার মতো আশপাশের ভবন বা উচু জায়গায় আশ্রয় নেন। মঙ্গলবারের দিনটাও পানিবন্দী কেটেছে তাদের অনেকেরই। 

মোহাম্মদপুর নবোদয় হাউজিং, মোহাম্মদপুর হাউজিং সোসাইটিসহ বেঁড়িবাধ লাগোয়া এলাকার বেশিরভাগ দোকানপাটও তলিয়ে গেছে। 

নষ্ট হয়েছে দোকানের মালামাল। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের পাম্প ঠিকমতো চালু না রাখা ও ময়লায় ড্রেন বন্ধ হওয়াতেই এমন দুর্ভোগ। 

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে গেলো চব্বিশ ঘন্টায় ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে ২৫৫ মিলিমিটার। মঙ্গলবার সকাল নাগাদ মূল সড়কের পানি নেমে গেলেও নিম্নাঞ্চলে এখনও জলজট। 

রামচন্দ্রপুর পাম্প হাউজে গিয়ে দেখা যায় পাঁচটি পাম্পের মধ্যে চারটি চলছে। অপারেটর জানালেন, পাম্পের সক্ষমতার চেয়ে বৃষ্টির পানি বেশি। তাই কুলানো যাচ্ছে না। 

মোহাম্মদপুর ছাড়াও ঢাকার নিউমার্কেট, আজিমপুর, মিরপুর, ধানমণ্ডি, গ্রীনরোড, বাসাবো ও বনানীসহ অনেক এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার তৈরি হয়।

জলজটের পাশাপাশি ঢাকার পথে পথে তান্ডবের চিহ্ন রেখে গেছে সিত্রাং। শুধু ঢাকার উত্তর সিটিতেই দুশোরও বেশি গাছ উপড়ে পড়েছে। দিনভর সেসব সরিয়ে নেয়ার কাজ চলেছে।


একাত্তর/এআর