বাংলাদেশের সংবিধান ও মহান স্বাধীনতা নিয়ে সম্প্রতি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসম্মানজনক মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তাদেরকে অনতিবিলম্বে জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সন্তানদের সংগঠন প্রজন্ম ৭১। অন্যথায় রাষ্ট্রদ্রোহী বক্তব্যের কারণে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবী জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (১৬ জানুয়ারি) প্রজন্ম ৭১-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'সম্প্রতি আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশের সংবিধান ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে নতুন সংবিধান তৈরি করবো। আর গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ভাগ্যক্রমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছে। প্রজন্ম ৭১ মনে করে এই দুই বক্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মৌল চেতনাকে অবজ্ঞা, অস্বীকার, এবং অবমাননা করা হয়েছে যা দেশদ্রোহিতার সামিল'।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সংবিধান ছুঁড়ে ফেলার কথা বলা মানে বাংলাদেশের তিরিশ লক্ষ শহীদের আত্মদানকে অস্বীকার করা। অন্যদিকে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মন্তব্য (ভাগ্যক্রমে স্বাধীনতা পাওয়া) তো সরাসরি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অবমাননা ও অস্বীকার! প্রজন্ম ৭১ দ্ব্যর্থহীনভাবে জানাচ্ছে, এই ধরনের বক্তব্য ও ভাষ্যের সঙ্গে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের দৃষ্টিভঙ্গির কোনো পার্থক্য নেই। এই সকল বুর্বুকদের আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, এই অঞ্চলের শোষিত, বঞ্চিত, নিপীড়িত মানুষের সুদীর্ঘকালের রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাস, সত্তরের নির্বাচন, ও মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তির উপরে রচিত হয়েছে বাংলাদেশের সংবিধান যার প্রন্তাবনায় মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী নিযুত শহীদের ত্যাগ স্বীকারের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা রয়েছে। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি সংবিধানে বর্ণিত এই সকল মৌলিক প্রেক্ষাপটের উপর ভিত্তি করেই বিশ্ব মানচিত্রে সর্বদা টিকে থাকবে'।
'আমরা অত্যন্ত তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে লক্ষ্য করে আসছি যে, ইউরোপের নিও ফ্যাসিক্ট বা নিও নাজিদের মত আমাদের দেশেও নিও-পাকিস্তানপন্থীরা তাদের দন্ত-নখর বিস্তার করছে যার সুচনা হয়েছিল ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করার মধ্য দিয়ে। বিএনপির উল্লেখিত এই দুই নেতার কন্ঠে আমরা নিও পাকিস্থানপন্থীদেরই প্রতিধ্বনি শুনতে পাচ্ছি যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতির পিতার মানবিক বাংলাদেশ বিনিমার্নের পথে এক অশনিসংকেত দিচ্ছে। আমরা লক্ষ্য করছি, দেশে এবং বিদেশে দেশবিরোধী নানা শক্তি এখন নগ্নভাবে মুক্তিযুদ্ধ ও এর অর্জনের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা ও তরুণদের বিভ্বান্ত করতে ইতিহাস বিকৃত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। আমরা মনে করি ক্ষমতাসীন সরকার, আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধ পক্ষের অন্যান্য প্রগতিশীল সংগঠনগুলোর এই প্রবণতার বিরুদ্ধে যথাযথ বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচির উদ্যোগ গ্রহণ আজ সময়ের দাবী। এক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধ পক্ষের শক্তিকে যথেষ্ট সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে আমরা দেখছি না যা শহীদের উত্তরসূরী আমাদেরকে নিদারুণভাবে ব্যথিত ও আশংকিত করছে। মুক্তিযুদ্ধ পক্ষের রাজনৈতিক-সামাজিক শক্তিগুলির মধ্যে বিরাজিত নানা মাত্রার অনৈক্য, বিভেদ ও নিক্কিয়তার সুযোগ নিয়ে আজ মিন্টু-গয়েশ্বর গংরা শহীদদের আত্বদানকে চরম অপমানিত করার দুঃসাহস ও ওদ্ধত্য দেখাচ্ছে', বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
বিজ্ঞপ্তিতে প্রজন্ম৭১ দেশের মৌল চেতনাবিরোধী ও্বত্যপূর্ণ বক্তব্য প্রত্যাহার করে অনতিবিলম্বে জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইবার জন্য আব্দুল আওয়াল মিন্টু এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের প্রতি আহবান জানায়। একইসাথে প্রজন্ম৭১ প্রত্যাশা করে যে বিএনপির সচেতন নেতৃবর্গ স্বীয় দলে এহেন অপচর্চা বন্ধ করতে দায়িত্বশীল ভুমিকা পালন করবেন।
আরও পড়ুন: মডেল মসজিদ ধর্মের নামে বিভ্রান্তি দূর করতে সহায়তা করবে: প্রধানমন্ত্রী
অনাথায় ঔদ্ধত্পূর্ণ, রাষ্ট্রের মৌল চেতনা বিরোধী বক্তব্য প্রদানকারীদের আইনের আওতায় আনার জন্য ক্ষমতাসীন সরকারের কাছে জোর দাবী জানায় তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সবশেষে, সমাজে বিরাজমান ও বিকাশমান নিও-পাকিস্তানপন্থীদের রুখতে ক্ষমতাসীন সরকার, আওয়ামী লীগসহ দেশের সকল প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হবার ডাক দিচ্ছে প্রজন্ম৭১।
একাত্তর/এসজে